ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর (S. Jaishankar) রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া অবস্থান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের নাম সরাসরি না করলেও তাঁর বক্তব্যে প্রতিবেশী দেশটির প্রতি স্পষ্ট বার্তা ছিল। জয়শংকর বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের নীতি বরাবরই কঠোর। কেউ নিজেদের না শোধরালে ভারত তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে বলেও জানান তিনি।
জয়শংকরের (S. Jaishankar) বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও দেশ সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দিয়ে পরে তার পরিণতি এড়ানোর জন্য নানা যুক্তি দেখাতে পারে না। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সন্ত্রাসবাদ শান্তির জন্য গুরুতর হুমকি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদেশমন্ত্রী (S. Jaishankar) আরও বলেন, বন্ধুত্ব এবং সদিচ্ছার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ একসঙ্গে চলতে পারে না। তাঁর বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা সন্ত্রাসবাদে মদত দেয়, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সন্ত্রাসবাদে জড়িতদের নিজেদের অবস্থান সংশোধন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এই বক্তব্যের মধ্যেই জয়শংকর (S. Jaishankar) পাহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তোলেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ওই হামলার নিন্দা করে দায়ীদের, হামলার সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছিল।
জয়শংকর জানান, ওই হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছিল। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করা এবং হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। নিরাপত্তা পরিষদে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেওয়া এক জবাবেও জয়শংকর পাহেলগাঁও হামলা এবং অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ তুলে ভারতের পদক্ষেপকে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
রাষ্ট্রসংঘে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের অবস্থান নতুন নয়। জয়শংকর আগেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনও দ্বিচারিতা না করার কথা বলেছেন। ভারতের বক্তব্য, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বা তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
অন্য দিকে, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন অধিবেশনে ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগও করে এসেছে। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্চে দুই দেশের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। ২০২৬ সালের বিভিন্ন অধিবেশনেও ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত অভিযোগ তুলেছে।
সব মিলিয়ে, রাষ্ট্রসংঘে জয়শংকরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের কঠোর অবস্থান আবারও সামনে এল। নাম না করেও পাকিস্তানকে লক্ষ্য করে তাঁর ‘না শোধরালে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ’ মন্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।












