ফুকেত-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ( Pilots) ঘটনায় বড় শিক্ষা নিল ভারতীয় বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা। দেশের সমস্ত বিমান সংস্থার পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জুলাই মাসের মধ্যে এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ করতে হবে বলে বিমান সংস্থাগুলিকে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
এত দিন দেশের সমস্ত পাইলটের ( Pilots) জন্য বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষার কোনও একক নিয়ম ছিল না। তবে এবার সেই ব্যবস্থায় বদল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নাইডু জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে পাইলটদের মাদক পরীক্ষা সংক্রান্ত নতুন নিয়মের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এরপরই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হবে।
নতুন নিয়ম কার্যকর হলে দেশের সমস্ত বিমান সংস্থাকেই তা মেনে চলতে হবে। বর্তমানে দেশের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলিতে ১২ হাজারের বেশি পাইলট (Pilots) রয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেককেই মাদক পরীক্ষার আওতায় আনা হবে বলে কেন্দ্রীয় নির্দেশে জানানো হয়েছে।
ফুকেত-দিল্লি বিমানের ঘটনায় এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। গত ৪ অগস্ট ওই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটি আচমকা প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। ঘটনায় মোট ২৪ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের আঘাত গুরুতর ছিল বলে জানা যায়।
ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পর পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পরীক্ষায় এক পাইলটের শরীরে সাইকোঅ্যাক্টিভ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় বার পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ফলও ইতিবাচক আসে বলে জানা যায়।
পরে ওই পাইলট তদন্তকারীদের কাছে বিমানে ওঠার আগে গাঁজার পাশাপাশি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে সূত্রের দাবি। এই ঘটনা সামনে আসার পরেই বিমান চালানোর সময় পাইলটদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে (Pilots)।
বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে পাইলটের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঝআকাশে কোনও যান্ত্রিক সমস্যা বা অন্য কোনও বিপদ দেখা দিলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাঁদের। সেই পরিস্থিতিতে পাইলট মাদকাসক্ত থাকলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমন আশঙ্কার কারণেই এবার পাইলটদের মাদক পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন নির্দেশিকায় দেশের সব বিমান সংস্থার পাইলটদের মাদক পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিমানযাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পাইলটদের মাদক সেবন ঠেকাতে এবার আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে।












