প্রাক্তন কেরল মুখ্যসচিব জিজি থমসন (Former Chief Secretary) দাবি করেছেন, ২০১৬ সালে দিল্লিগামী একটি বিমানে তৎকালীন আমলা গ্যানেশ কুমার তাঁকে বিজেপির হয়ে লোকসভা নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। থমসনের দাবি, সেই সময় তিনি কেরলের মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। জ্ঞানেশ কুমারও তখন সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন।
জিজি থমসনের (Former Chief Secretary) বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ কথাবার্তা চলছিল। অবসরের পর তাঁর পরিকল্পনা কী, তা জানতে চেয়েছিলেন জ্ঞানেশ। থমসন জানিয়েছিলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি প্রকল্পে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
থমসনের (Former Chief Secretary) দাবি, এরপর জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পটনমতিট্টা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার কথা বলেন। নির্বাচনে জিতে সাংসদ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার সুযোগও থাকতে পারে বলে তাঁকে বলা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন থমসন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করেন।
জিজি থমসন আরও জানিয়েছেন, এর আগেও তাঁর কাছে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তাব এসেছিল। সেই প্রস্তাবও তিনি (Former Chief Secretary) প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি জানতে পেরে জ্ঞানেশও তাঁকে রাজনীতিতে আসার জন্য উৎসাহ দিয়েছিলেন।
এই দাবি এমন সময়ে সামনে এল, যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে এসেছে।
একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক যোশী ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম তোলা, নাম বাদ দেওয়া, নাম পুনর্বহাল, ভোটার সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তি এবং ভোটার তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত অনলাইন ফর্মের কিছু পরিবর্তন নিয়েও আপত্তির কথা সামনে এসেছে। ভোটার তথ্যভাণ্ডার পরিচালনার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরও কেন্দ্রীয় হয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও দুই নির্বাচন কমিশনার প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলির অন্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে মতপার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক। তাদের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের অনুমোদনেই সর্বসম্মত ভাবে নেওয়া হয়েছে।
জিজি থমসনের এই বক্তব্যের পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীও জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেছেন। থমসনের বক্তব্যকে সামনে রেখে তিনি অভিযোগ করেছেন, জ্ঞানেশ তখন সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বিজেপির জন্য প্রার্থী খোঁজার কাজে যুক্ত ছিলেন এবং পরে তাঁকেই দেশের নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে থমসনের নিজের বক্তব্যে জ্ঞানেশ কুমার পরবর্তীতে নির্বাচন প্রভাবিত করেছেন বা কারচুপিতে যুক্ত ছিলেন—এমন কোনও প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় না।
ফলে প্রাক্তন মুখ্যসচিবের এই দাবি মূলত ২০১৬ সালের একটি কথোপকথন সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা। সেই দাবির সত্যতা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশন বা বিজেপির পক্ষ থেকে কোনও পাল্টা বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতবিরোধ—দুই বিষয় ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
জ্ঞানেশ কুমার কেরল ক্যাডারের ১৯৮৮ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি আইএএস থেকে অবসর নেন এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন।











