তারাতলায় (Taratala) নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি গ্রহণ করেছে। দুর্ঘটনার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, মৃত ও আহতদের জন্য কী ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে, সেই সমস্ত তথ্য চেয়ে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে (Taratala) ।
গত ২৪ জুন দুপুরে হঠাৎ ভেঙে পড়ে তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ভবন (Taratala) । এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোট ষোলো জনের মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করছেন। প্রমাণ নষ্ট না হয়, তাই গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার (Taratala) পর রাজ্য সরকার উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ কুমার সিনহার নেতৃত্বে এগারো সদস্যের এই কমিটিতে কলকাতা পুরসভা, দমকল, পুলিশ, দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগ, পূর্ত দপ্তর-সহ একাধিক সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
তদন্তে (Taratala) জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া ভবনটি গুদাম ও হিমঘর হিসেবে তৈরি করা হচ্ছিল। তবে নির্মাণের নকশা এবং কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখতে কলকাতা পুলিশ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে থাকা প্রকৌশলী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি মাটির গুণগত মানও পরীক্ষা করা হবে। সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
তারাতলা বিপর্যয়ের তদন্ত এখন একাধিক স্তরে চলছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপের পর এই মামলার অগ্রগতি এবং তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে।













