সুখেন্দুশেখর রায়ের পর এবার রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব (Susmita Dev)। বুধবার সকালে তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেন। শুধু সাংসদ পদই নয়, অসমে তৃণমূলের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
সুস্মিতা দেবের (Susmita Dev) এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, গত কয়েক দিনের মধ্যে এটি তৃণমূলের দ্বিতীয় বড় ইস্তফা। এর আগে সুখেন্দুশেখর রায়ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা আরও কমে গেল।
দলীয় সূত্রে খবর, সুস্মিতা দেবের (Susmita Dev) পর আরও কয়েকজন সাংসদ রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ভাবছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সদ্য সাংসদ হওয়া বাংলার সংস্কৃতি জগতের এক পরিচিত মুখও। এছাড়াও আরও কয়েকজন সাংসদ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে লোকসভাতেও তৃণমূলের একাংশ সাংসদের অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে রাজ্যসভায় একের পর এক ইস্তফা দলের জন্য নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য, সুস্মিতা দেব (Susmita Dev) দুই হাজার একুশ সালের ষোলো অগস্ট তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলে এসেছিলেন। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে অসম এবং ত্রিপুরার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠায় দল।
সুস্মিতা দেব (Susmita Dev) প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত সন্তোষমোহন দেবের কন্যা। দীর্ঘদিন কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। কংগ্রেসের টিকিটে শিলচর থেকে বিধায়ক এবং পরে সাংসদও নির্বাচিত হয়েছিলেন। একসময় তিনি রাহুল গান্ধির ঘনিষ্ঠ নেত্রী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
দুই হাজার একুশ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর দ্রুত দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন সুস্মিতা। তৃণমূলে যোগদানের দেড় মাসের মধ্যেই তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়। রাজ্যে মন্ত্রী হওয়ার পর মানস ভুঁইয়ার ফাঁকা হওয়া আসনে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল।
তবে এবার সেই রাজ্যসভার পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আরও সাংসদ কি একই পথে হাঁটবেন, তা নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। আগামী দিনে এই ঘটনাপ্রবাহ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।











