অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান (Cabinet Ministers)। রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভার দপ্তর বণ্টন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোট একচল্লিশ জন মন্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি দপ্তর নিজের কাছেই রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
স্কুল শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব (Cabinet Ministers) পেয়েছেন দীপক বর্মন। তাঁর হাতে রয়েছে আবাসন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের দায়িত্বও। অর্থমন্ত্রী হয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চিকিৎসক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে। শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস রায়। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে।
নিশীথ প্রামাণিকের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি পেয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং জলসম্পদ তদন্ত ও উন্নয়ন দপ্তর। ক্রীড়া ও যুব কল্যাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দ্রনীল খাঁকে। পাশাপাশি তাঁর হাতে রয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরও। শ্রম ও পর্যটন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অর্জুন সিং (Cabinet Ministers)।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের কাছেই রেখেছেন স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, বিদ্যুৎ এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। পাশাপাশি যে দপ্তরগুলির দায়িত্ব অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি, সেগুলিও আপাতত তাঁর তত্ত্বাবধানেই থাকবে।
খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। আদিবাসী কল্যাণ এবং সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। পরিবেশ ও বন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনোজকুমার ওরাওঁকে। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ এবং গ্রন্থাগার দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন গৌরিশংকর ঘোষ (Cabinet Ministers)।
তথ্যপ্রযুক্তি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কল্যাণ চক্রবর্তীকে। সেচ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন অরূপকুমার দাস। জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং পূর্ত দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অজয়কুমার পোদ্দারকে। কৃষি দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন দুধকুমার মণ্ডল।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন মালতি রাভা রায়। মৎস্য দপ্তরের দায়িত্বে রয়েছেন রাজেশ মাহাতো। ক্রীড়া ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। জোয়েল মুর্মু পেয়েছেন আদিবাসী উন্নয়ন ও সেচ দপ্তর। হরেকৃষ্ণ বেরা উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আনন্দময় বর্মনের হাতে রয়েছে পরিবহণ ও অর্থ দপ্তর। অশোক দিন্দা পেয়েছেন কৃষি বিপণন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দপ্তর। নাদিয়ার চাঁদ বউরির দায়িত্বে রয়েছে পূর্ত এবং অনগ্রসর জাতি কল্যাণ দপ্তর।
বিশাল লামা পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র এবং সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। শান্তনু প্রামাণিকের হাতে রয়েছে খাদ্য ও সরবরাহ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র দায়িত্ব পেয়েছেন শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জীবপ্রযুক্তি দপ্তরের। উমেশ রায় রয়েছেন পরিষদীয় এবং পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বে।
পূর্ণিমা চক্রবর্তী পেয়েছেন তথ্য ও সংস্কৃতি এবং পর্যটন দপ্তর। কৌশিক চক্রবর্তীর হাতে রয়েছে স্কুল শিক্ষা এবং দমকল দপ্তর। ভাস্কর ভট্টাচার্য দায়িত্ব পেয়েছেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং শ্রম দপ্তরের। দিবাকর ঘরামি রয়েছেন সমবায়, পরিবেশ ও বন দপ্তরের দায়িত্বে। অমিয় কিস্কু পেয়েছেন খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং কৃষি দপ্তর। কলিতা মাজির হাতে রয়েছে আবাসন দপ্তর। গার্গী দাস ঘোষ দায়িত্ব পেয়েছেন বিদ্যুৎ দপ্তরের।
বিরাজ বিশ্বাস পেয়েছেন আইন এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। দীপঙ্কর জানার হাতে রয়েছে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব এবং সুন্দরবন বিষয়ক দপ্তর। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সুমনা সরকার।
দপ্তর বণ্টনের ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কার হাতে কোন দায়িত্ব গেল এবং আগামী দিনে এই নতুন মন্ত্রিসভা কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।











