টানা ভারী বৃষ্টি, ঝড় এবং হড়পা বানের জেরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গ (North Bengal) ও সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিভিন্ন জায়গায় জল জমে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। কোথাও ধস, কোথাও আবার নদীর জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে গ্রাম ও চা বাগান এলাকা। সিকিমে ভূমিধসের ঘটনায় একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, তিস্তা নদীতে গাড়ি দুর্ঘটনার পর এক পরিবারের চার সদস্য এখনও নিখোঁজ। তাঁদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
শুক্রবার রাতে গ্যাংটক থেকে শিলিগুড়ি (North Bengal) ফেরার পথে তিস্তা নদী সংলগ্ন এলাকায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গাড়িটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই এক পরিবারের চার সদস্যের কোনও খোঁজ মেলেনি। উদ্ধারকারীরা নদী ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সেবক এলাকায় (North Bengal)। সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল একশো চৌষট্টি মিলিমিটার। এছাড়া কুমারগ্রাম, মালবাজার এবং ডুয়ার্সের একাধিক এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সেবকে বড়সড় ধস নামে। জাতীয় সড়কের উপর পাথর ও মাটি নেমে আসায় কয়েক ঘণ্টার জন্য শিলিগুড়ি, সিকিম ও ডুয়ার্সের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
ভারী বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি ঝোরাগুলিও ফুলে ফেঁপে ওঠে। হড়পা বানের জলে নিউ মাল থেকে মালবাজার যাওয়ার পথে রাজা চা বাগান এলাকা প্লাবিত হয়। জাতীয় সড়কের একটি অংশও জলের তলায় চলে যায় (North Bengal)।
নাগরাকাটা ব্লকের সুখানী বস্তিতেও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর ভাঙা বাঁধ দিয়ে জল ঢুকে বহু বাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। আতঙ্কে অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। স্থানীয়দের দাবি, ভুটানের পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টির জেরেই সুখানী নদীর জল দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সেই জল গ্রামে ঢুকে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বাঁধ মেরামতের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ভয়াবহ হড়পা বানের স্মৃতি এখনও তাজা। সেই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ফলে এবারের পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এদিকে, শিলিগুড়ি মহকুমার খড়িবাড়ি এলাকার পাটারাম জোতেও ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। প্রবল ঝড়ে অন্তত পঁচিশটি কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় গোটা এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।
সিকিমেও টানা বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকালে দিকচু-সিংতাম সড়কের রাংচাং ভির এলাকায় ভূমিধস নামে। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদেরও প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।











