উত্তরবঙ্গকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে ফের অভিযোগ তুলল বিজেপি। উত্তরকন্যায় দাঁড়িয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal)। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে উন্নয়ন করার পথে হাঁটবে না বর্তমান সরকার। গোটা রাজ্যের সমান উন্নয়নই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।
রবিবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন পুর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Pal)। পরে উত্তরকন্যায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে উত্তরবঙ্গের মানুষ পর্যাপ্ত পরিষেবা পাননি। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি।
অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Pal) বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছেন। নির্বাচনের আগে বিজেপি যে প্রতিশ্রুতিগুলি দিয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এখন সেই পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন।
মন্ত্রী (Agnimitra Pal) আরও বলেন, শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, গোটা বাংলার উন্নয়নই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন হবে, আবার দক্ষিণবঙ্গও সমান গুরুত্ব পাবে। কোনও অঞ্চলকে আলাদা করে দেখা হবে না। রাজ্যের প্রতিটি জেলার উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার।
উত্তরবঙ্গের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি নেতৃত্ব বহুবার অভিযোগ করেছে, আগের সরকার এই অঞ্চলকে উপেক্ষা করেছে। নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উত্তরবঙ্গকে বঞ্চনার শিকার বলে দাবি করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে উত্তরবঙ্গকে দূরে রাখা হয়েছিল এবং চা শিল্পও সংকটের মুখে পড়েছিল।
বর্তমান সরকারের আমলে উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন অগ্নিমিত্রা। তিনি জানান, মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গের একাধিক প্রতিনিধিকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্মেও এই অঞ্চলের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন বর্ষা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী (Agnimitra Pal)। তিনি বলেন, গত বছর উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা ও ধসের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অগ্নিমিত্রার দাবি, সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষাকালে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা।












