Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • ৪৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই! ভারতের উপর ভাসছে ভয়ংকর তাপপ্রবাহের ছায়া
দেশ

৪৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই! ভারতের উপর ভাসছে ভয়ংকর তাপপ্রবাহের ছায়া

heat wave 1
Email :7

এপ্রিল মাসেই এমন গরম পড়েছে যে সাধারণ মানুষ কার্যত হাঁসফাঁস করছেন। মনে হচ্ছে যেন ফুটন্ত কড়াইয়ের উপর বসে রয়েছেন সবাই, আর নিচ থেকে সূর্যের তাপ ক্রমশ বাড়ছে (Heat Wave)। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের বড় অংশ জুড়েই চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলেছে। এর ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (Heat Wave)।

মৌসম ভবনের মতে, সাধারণত গ্রীষ্মের চরম সময়ে ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মধ্যে তাপমাত্রা থাকে। কিন্তু এবার জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এপ্রিলেই সেই মাত্রা দেখা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে (Heat Wave)।

উত্তর ভারতের দিল্লি, পঞ্জাব ও হরিয়ানায় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও মধ্য প্রদেশেও একই ছবি। বহু জায়গায় পারদ ৪৪ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। মহারাষ্ট্রের আকোলায় ৪৫.৬ ডিগ্রি, পঞ্জাবের ফরিদকোটে ৪৫.২ ডিগ্রি, ওড়িশার ঝারসুগুড়ায় ৪৪.৬ ডিগ্রি এবং গুজরাটের আহমেদাবাদে ৪৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এমনকি পাহাড়ি রাজ্য হিমাচল প্রদেশেও এপ্রিলেই তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছুঁয়েছে (Heat Wave)।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম তাপমাত্রার দিক থেকে ভারত এখন এক বড় হটস্পট হয়ে উঠছে। বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণ শহরের তালিকায় একাধিক ভারতীয় শহরের নাম রয়েছে। আগামী দিনে উত্তর, মধ্য ও পূর্ব ভারতে গরম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এই অস্বাভাবিক গরমের প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। দুপুরের সময়ে অনেকেই বাইরে বের হতে পারছেন না। একাধিক রাজ্যে স্কুলের গরমের ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে ছুটি শুরু হলেও এখন অনেক জায়গায় তা আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র গরমে অসুস্থতার ঘটনাও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয়াবহ গরমের অন্যতম কারণ সুপার এল নিনো। এটি এক ধরনের জলবায়ুগত পরিবর্তন, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের জল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি গরম হয়ে যায়। যখন এই তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় ধরে অনেকটা বেশি থাকে, তখন তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। এর ফলে পৃথিবীর আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায় এবং নানা চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এর প্রভাবে ভারতে বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে এবং খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যার ফলে চাষাবাদেও সমস্যা হয়। ধান, আখ বা সয়াবিনের মতো ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে, যা খাদ্যের দামের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গেও এর প্রভাব স্পষ্ট। দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা যেতে পারে, ফলে চাষিরা সমস্যায় পড়বেন। একই সঙ্গে কলকাতা ও আশপাশের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। শীতের সময়ও ছোট হয়ে আসতে পারে এবং ঠান্ডার তীব্রতা কমে যেতে পারে।

এছাড়া বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণিঝড়ের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। কখনও কম বৃষ্টি, আবার কখনও হঠাৎ প্রবল নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি শুধু গরম বাড়ায় না, দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের গতিকেও ত্বরান্বিত করে। যার প্রভাব এখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Related Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts