ভারতের জনসংখ্যা ও জন্মহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী শিল্পপতি ইলন মাস্ক (Elon Musk)। সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতের জন্মহার এখন প্রতিস্থাপন স্তরের নীচে নেমে গিয়েছে। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষের মধ্যে বহু বছর আগেই এই হার প্রতিস্থাপন স্তরের নীচে নেমেছিল বলে দাবি করেছেন তিনি (Elon Musk)।
ইলন মাস্কের (Elon Musk) এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জনসংখ্যাবিদদের মতে, কোনও দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে একজন মহিলার গড়ে অন্তত ২.১টি সন্তানের জন্ম দেওয়া প্রয়োজন। একে বলা হয় প্রতিস্থাপন স্তরের উর্বরতা হার। এই হার দীর্ঘদিন ধরে তার নীচে থাকলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি কমে যায় এবং ভবিষ্যতে জনসংখ্যা হ্রাসও পেতে পারে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অধিকাংশ রাজ্যেই উর্বরতা হার এখন প্রতিস্থাপন স্তরের নীচে নেমে এসেছে। শুধুমাত্র বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড় এবং ঝাড়খণ্ডে এখনও এই হার ২.১-এর উপরে রয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের প্রকাশিত দুই হাজার পঁচিশ সালের বিশ্ব জনসংখ্যা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বর্তমানে প্রতি মহিলার গড় সন্তান জন্মদানের হার প্রায় ১.৯। অর্থাৎ দেশ ইতিমধ্যেই প্রতিস্থাপন স্তরের নীচে চলে এসেছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হলেও ভারতের জনসংখ্যাগত চিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। ছোট পরিবার, কম সন্তান এবং ধীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে দেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও সমাজের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
জনসংখ্যাবিদরা সতর্ক করছেন, জন্মহার দীর্ঘদিন কম থাকলে ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা বাড়বে। ফলে পেনশন, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, জন্মহার এবং উর্বরতা হার এক বিষয় নয়। জন্মহার বলতে বছরে প্রতি এক হাজার মানুষের মধ্যে কতজন শিশুর জন্ম হচ্ছে তা বোঝায়। অন্যদিকে উর্বরতা হার হল একজন মহিলা তাঁর জীবদ্দশায় গড়ে কতজন সন্তানের জন্ম দেবেন তার হিসাব। উর্বরতা হার কমতে থাকলে সময়ের সঙ্গে জন্মহারও কমে যায় এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি শ্লথ হয়ে পড়ে।
ইলন মাস্কের মন্তব্য এবং সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের পর ভারতের জনসংখ্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আগামী কয়েক দশকে দেশের অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের জন্য এই পরিবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।











