মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তি বাড়লেই জ্বালানি সরবরাহে সমস্যার মুখে পড়ে ভারত (India)। পেট্রোল, ডিজেল থেকে শুরু করে রান্নার গ্যাস— সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়ে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান খুঁজতে বড় পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র সরকার। ওমান থেকে গুজরাট পর্যন্ত সমুদ্রের নিচ দিয়ে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ গ্যাস পাইপলাইন বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরাসরি ভারতে জ্বালানি গ্যাস পৌঁছে যাবে। পুরো প্রকল্পে প্রায় চল্লিশ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে (India)।
সূত্রের খবর, গত কয়েক দশকে একাধিকবার এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও বিপুল ব্যয়, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার একটি বেসরকারি সংস্থা প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে (India)। ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সমীক্ষার পাশাপাশি সম্ভাব্য রুট নিয়ে প্রাথমিক জরিপও সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওমানের রাস আল জিফান এলাকা থেকে আরব সাগর পেরিয়ে সরাসরি গুজরাটের পোরবন্দরে পৌঁছবে গ্যাস (India)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার মিটার গভীরে পাইপলাইন বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। কাজ শেষ হলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সরাসরি ভারতে আনা সম্ভব হবে। এর ফলে সমুদ্রপথে জাহাজে গ্যাস পরিবহণের খরচও অনেকটাই কমে যাবে।
এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে। ওমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে খুব শীঘ্রই প্রকল্পের কাজ শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়। কিন্তু যুদ্ধ এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে বহু সময় এই রুটে সমস্যা তৈরি হয়। তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতের জ্বালানি সরবরাহেও। সম্প্রতি ওমান সফরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবার দুই দেশের মধ্যে সরাসরি জ্বালানি সংযোগ তৈরির এই পরিকল্পনা সামনে এসেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।











