ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফেরানোর পথে বড় পদক্ষেপ নিল লন্ডনের ওয়েলকাম কালেকশন। শতাধিক বছর ধরে নিজেদের সংগ্রহে রাখা দুই হাজারেরও বেশি বিরল জৈন পাণ্ডুলিপি (Jain Manuscripts) এবার জৈন সম্প্রদায়ের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় জৈন পাণ্ডুলিপির সংগ্রহ বলে মনে করা হয়।
দীর্ঘদিনের আলোচনা এবং ব্রিটেনের ইনস্টিটিউট অব জৈনোলজির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিগুলিতে (Jain Manuscripts) ধর্ম, চিকিৎসাবিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি সম্পর্কিত বহু মূল্যবান তথ্য রয়েছে। প্রাকৃত, সংস্কৃত, গুজরাটি, রাজস্থানি এবং প্রাচীন হিন্দি ভাষায় লেখা এই পাণ্ডুলিপিগুলির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলির মধ্যে রয়েছে এমন একটি লেখা, যেখানে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, সেই লেখাতেই পরে মহাত্মা গান্ধীর ভাবনায় প্রভাব ফেলেছিল এমন কিছু নৈতিক চিন্তার উল্লেখ রয়েছে।
এই সংগ্রহে রয়েছে ষোড়শ শতকের বিরল চিত্রসহ ‘কল্পসূত্র’ পাণ্ডুলিপি (Jain Manuscripts)। এছাড়াও রয়েছে ষোলোশো আটাশি সালের হাতে লেখা একটি দুর্লভ চিকিৎসাবিষয়ক পাণ্ডুলিপি। এটি ‘বৈদ্যমানোৎসব’ নামে পরিচিত এবং হিন্দি ভাষার অন্যতম প্রাচীন চিকিৎসা বিষয়ক নথি বলে মনে করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথমে এই পাণ্ডুলিপিগুলি বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মনাথ নেটওয়ার্কে নিয়ে যাওয়া হবে (Jain Manuscripts)। সেখানে গবেষক, পণ্ডিত এবং জৈন সম্প্রদায়ের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করে এই নথিগুলির সংরক্ষণ, অনুবাদ এবং গবেষণার কাজ করবেন। ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্যও এই ঐতিহাসিক নথি উন্মুক্ত করা হবে।
ইনস্টিটিউট অব জৈনোলজির ট্রাস্টি মেহুল সংঘরাজকা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সাহসী এবং ঐতিহাসিক। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও এটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পরে ভারতের নানা অস্থিরতার সময়ে হয়তো এই পাণ্ডুলিপিগুলি নষ্ট হয়ে যেতে পারত। তাই এতদিন যত্ন করে সংরক্ষণ করার জন্য ওয়েলকাম কালেকশনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
এই সপ্তাহেই ওয়েলকাম ট্রাস্ট, ইনস্টিটিউট অব জৈনোলজি এবং বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই পূর্ণ আইনি চুক্তিও সম্পন্ন হবে বলে জানা গিয়েছে (Jain Manuscripts)।
ওয়েলকাম কালেকশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ পাণ্ডুলিপি ব্রিটিশ আমলে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ব্রিটিশ ব্যবসায়ী স্যার হেনরি ওয়েলকাম পঞ্জাবের একটি জৈন মন্দির থেকে খুব কম দামে এগুলি কিনেছিলেন। বর্তমানে সেই মন্দির আর অস্তিত্বে নেই। সংগ্রহশালার বক্তব্য, সেই সময় পাণ্ডুলিপিগুলি প্রকৃত মালিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মনাথ নেটওয়ার্কের প্রধান মারি হেলেন গরিস জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলে ছাত্রছাত্রী, গবেষক এবং সাধারণ মানুষ সকলেই উপকৃত হবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও এই মূল্যবান ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
জানা গিয়েছে, দুই হাজার সালের গোড়ার দিকে এই পাণ্ডুলিপিগুলির তালিকা তৈরির কাজ করেছিলেন গবেষক কানহাইয়ালাল শেঠ এবং কল্পনা শেঠ। সেই সমস্ত গবেষণার নথিও ভবিষ্যতে অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।











