ইরান সংকট নিয়ে কড়া ভাষায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আক্রমণ করলেন প্রাক্তন ন্যাটো সেনা কর্তা রিচার্ড শেরেফ (Iran War)। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে আমেরিকা ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় কৌশলগত বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের আচরণ অস্থির ও বিভ্রান্তিকর, যা গোটা বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে (Iran War)।
প্রায় চল্লিশ দিনের যুদ্ধের পর আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। পরে আবার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ওয়াশিংটন। এই সিদ্ধান্তকে তীব্র কটাক্ষ করে শেরেফ বলেন, এই যুদ্ধ কোনও লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। বরং এটি সম্পূর্ণ ব্যর্থতার উদাহরণ (Iran War)।
তাঁর মতে, আমেরিকা যেভাবে এই যুদ্ধকে জয়ের হিসেবে তুলে ধরছে, বাস্তবে তা এক বড় ধাক্কা। ইরান এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীর উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণ হয়, ফলে ইরানের এই নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাজারকে চাপে ফেলতে পারে (Iran War)।
শেরেফ আরও বলেন, যুদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়েও আমেরিকার অবস্থান পরিষ্কার ছিল না। কখনও শাসনব্যবস্থা বদলানোর কথা বলা হয়েছে, আবার কখনও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, কোনও স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই এই যুদ্ধ চালানো হয়েছে (Iran War)।
তিনি মনে করেন, ইরান ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছে যে হরমুজ প্রণালী তাদের হাতে একটি বড় অস্ত্র। এর মাধ্যমে তারা বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে রাখতে পারবে। যদিও আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের কিছু সামরিক ক্ষতি হয়েছে, তবে তা কৌশলগত দিক থেকে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি।
এদিকে যুদ্ধবিরতির পর শান্তি আলোচনায় বসতে চলেছে আমেরিকা ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক হওয়ার কথা। তবে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য এখনও প্রবল। ফলে এই আলোচনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে দীর্ঘদিন প্রভাবিত করবে এবং বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।












