ইরানে হামলার কথা স্বীকার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর দাবি, ইরান যাতে আবার পরমাণু পরিকাঠামো গড়ে তুলতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই আঘাত। নিজের সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অস্ত্র না ফেললে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ট্রাম্প (Donald Trump) বার্তায় বলেন, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের এখনই অস্ত্র সমর্পণ করা উচিত। তা হলে পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। অন্যথায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে পড়তে হবে। হামলার পরেই এই বার্তা প্রকাশ করেন তিনি।
ভারতীয় সময় শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান চালায় (Donald Trump)। অভিযানের নাম দেওয়া হয় সিংহগর্জন ও এপিক ফিউরি। এই হামলায় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামরিক স্থাপনা নিশানা করা হয়। অভিযোগ, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর দপ্তর এবং ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ও লক্ষ্যবস্তু ছিল।
কয়েক দিন আগেই ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনও পরমাণু বোমা তৈরি করবে না। সেই প্রেক্ষিতেই এই সামরিক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প জানান, আমেরিকার লক্ষ্য ইরানের পুনর্গঠিত পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস করা এবং আমেরিকার জনগণকে তাৎক্ষণিক বিপদ থেকে রক্ষা করা।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর কার্যকলাপ বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনা, নাগরিক ও মিত্রদের জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই সেই হুমকি দূর করতেই এই অভিযান। তিনি স্পষ্ট করে দেন, ইরানকে কোনও ভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের রাস্তায় খামেনেই সরকারের বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে বলেও খবর। সেই প্রেক্ষিতে ইরানের সাধারণ মানুষের উদ্দেশে ট্রাম্প (Donald Trump) বলেন, তাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। তবে এখন ঘরের ভিতরে নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর সতর্কবার্তা, বাইরে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক, সর্বত্র বোমা পড়তে পারে। অভিযান শেষ হলে জনগণ যেন নিজেদের সরকার নিজেরাই গড়ে তোলে, এমন আহ্বানও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে ইরান-আমেরিকা সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।










