ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান-এর সংঘাত (Pak-Afgan War)। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আফগান যুদ্ধে ইসলামাবাদকেই সমর্থন করছে আমেরিকা। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুবই ভালো।
শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধে (Pak-Afgan War) তিনি হস্তক্ষেপ করবেন। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনা প্রধানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁর দাবি, পাকিস্তান ভালো কাজ করছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে মার্কিন বিদেশ দপ্তরও পাকিস্তানকে (Pak-Afgan War) সমর্থন জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, তালিবানের হামলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তালিবান সন্ত্রাসবাদ বিরোধী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আফগান ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে গোটা অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তালিবানকে (Pak-Afgan War) পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারার পরিপ্রেক্ষিতে এবার পাকিস্তানকে সমর্থন করে কৌশলগত সুবিধা নিতে চাইছে আমেরিকা। এই অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত রবিবার পাকিস্তানি হামলার পালটা দিতে বৃহস্পতিবার রাতে পাক সীমান্ত (Pak-Afgan War) পেরিয়ে আক্রমণ চালায় আফগান ফৌজ। তালিবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তানের অন্তত ১২টি পোস্ট তাদের দখলে এসেছে। সেই সংঘাতে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ সেই সংখ্যা স্বীকার করেনি।
এর পর শুক্রবার আফগানিস্তানের একাধিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। দু’পক্ষেই সেনা হতাহতের খবর মিলেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, ধৈর্যের সীমা শেষ হয়েছে, এবার সরাসরি যুদ্ধের পথে হাঁটবে ইসলামাবাদ। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদের দাবি, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে ইসলামাবাদের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ।
উত্তেজনার এই আবহে তালিবান নিজেদের সুইসাইড স্কোয়াড সক্রিয় করেছে বলেও খবর ছড়িয়েছে। সব মিলিয়ে পাক-আফগান সীমান্তে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক মহল গভীর নজর রাখছে এই সংঘাতের দিকে।












