জমি দুর্নীতি এবং প্রতারণা মামলায় অবশেষে ইডি দপ্তরে হাজির হলেন সোনা পাপ্পু (Sona Pappu) ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দার। সোমবার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে পৌঁছন। গোলপার্কের কাঁকুলিয়া বোমা-গুলি কাণ্ডের পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন তিনি (Sona Pappu)। বারবার তলব করা হলেও এতদিন হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
ইডি সূত্রে খবর, জমি দুর্নীতি এবং প্রতারণা মামলায় সোনা পাপ্পুর নাম (Sona Pappu) জড়ানোর পর থেকেই তদন্তে গতি আসে। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র এবং কয়েক কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। এরপরই একাধিকবার তাঁকে তলব করা হয়।
সোমবার ইডি দপ্তরে ঢোকার সময় বিশ্বজিৎ পোদ্দার (Sona Pappu) বলেন, তিনি কোথাও পালিয়ে যাননি এবং কোনও অন্যায়ও করেননি। ইডির ডাকে সাড়া দিতেই হাজিরা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ভোটের আগে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া এলাকায় বোমা এবং গুলি চলার ঘটনায় সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) নাম সামনে আসে। তারপর থেকেই তিনি নিখোঁজ বলে দাবি করা হচ্ছিল। যদিও মাঝেমধ্যেই সমাজমাধ্যমে লাইভে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সেই নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল, প্রকাশ্যে সক্রিয় থাকার পরও পুলিশ কেন তাঁর খোঁজ পাচ্ছে না।
এই মামলার তদন্তে সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামরা এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহাকে জেরা করে ইডি। পরে দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে হাওয়ালা যোগের অভিযোগও সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ইডি আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও ফের সক্রিয় হয়েছে ইডি। সোমবার সল্টলেকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দপ্তরে হাজিরা দেন দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাঁচু রায়। কয়েকদিন আগেই তাঁকে তলব করা হয়েছিল।
ইডি সূত্রে খবর, এই মামলায় ধৃত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে জেরা করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পাঁচু রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এমনকি সুজিত বসুর মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগের সময় একাধিক অনিয়ম হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনও হয়েছে বলে সন্দেহ ইডির।













