শতকোটি টাকার জিএসটি দুর্নীতি মামলায় পঞ্জাবের মন্ত্রী সঞ্জীব অরোরাকে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করেই তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত শুরু হয়েছে। আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের (Arvind Kejriwal) অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দিতে অস্বীকার করাতেই সঞ্জীব অরোরাকে টার্গেট করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের উপর চাপ তৈরি করছে বিজেপি।
সামাজিক মাধ্যমে কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) লেখেন, “সঞ্জীব অরোরা জেল বেছে নিয়েছেন, বিজেপি নয়।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলিকে দুর্বল করতে ইডি এবং সিবিআইকে ব্যবহার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও টেনে আনেন কেজরিওয়াল। তিনি দাবি করেন, যাঁদের একসময় বিজেপি দুর্নীতিগ্রস্ত বলত, পরে সেই নেতারাই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তদন্তের বাইরে চলে যাচ্ছেন।
কেজরিওয়াল (Arvind Kejriwal) লেখেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজেই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন। এখন তিনিই তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন। কিন্তু ইডি শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করবে না। ইডি শুধু সঞ্জীব অরোরা, অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা মনীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।”
এই ঘটনাকে ঘিরে সরব হয়েছে আপ নেতৃত্বও। পঞ্জাবের মন্ত্রী হরভজন সিং ইটিও অভিযোগ করেন, বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’-এর অংশ হিসেবেই বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গেও একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল, এবার পঞ্জাবে সেই পথেই এগোচ্ছে বিজেপি। তবে পঞ্জাবের মানুষ এই রাজনীতি মেনে নেবেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার চণ্ডীগড় থেকে সঞ্জীব অরোরাকে গ্রেফতার করে ইডি। পরে তাঁকে গুরুগ্রামের বিশেষ আদালতে তোলা হলে সাত দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় একশো কোটির বেশি টাকার ভুয়ো জিএসটি লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত একটি মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তেই এই গ্রেফতারি।
ইডি জানিয়েছে, হ্যাম্পটন স্কাই রিয়েলটি লিমিটেড নামে একটি সংস্থার সঙ্গে সঞ্জীব অরোরা ও তাঁর পরিবারের ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই সংস্থা বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন বিক্রির নামে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন করেছে। ইডির অভিযোগ, এই সংস্থার চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছিলেন সঞ্জীব অরোরা। সেই সময়েই এই বেআইনি লেনদেন হয়েছে।
তদন্তে নেমে ইডি সঞ্জীব অরোরার বাড়ি, ব্যবসায়িক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অফিস মিলিয়ে মোট চারটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে। গত ৫ মে এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
সঞ্জীব অরোরার গ্রেফতারি ঘিরে এখন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে আপ-বিজেপি সংঘাত। যদিও কেজরিওয়ালের অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিজেপির তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।











