রিষড়ার এক গৃহবধূকে খুনের (Rishra Murder) ঘটনায় সামনে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, স্ত্রীর পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অভিযোগ, স্ত্রী মনিকা সরকারকে খুন করার পর অভিযুক্ত স্বামী দীপঙ্কর নিজেই শ্যালিকাকে বার্তা পাঠিয়ে ঘটনার কথা জানান। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার বেলগাছিয়া মেট্রো স্টেশনের কাছে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি।
শনিবার সকালে রিষড়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় মনিকা সরকারের গলাকাটা দেহ (Rishra Murder)। সেই সময় একই ঘরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিল তাঁদের ছোট্ট কন্যাসন্তান। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, অভিযুক্ত দীপঙ্কর ইতিমধ্যেই আত্মঘাতী হয়েছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, দুই হাজার একুশ সালে মনিকা ও দীপঙ্করের পরিচয় হয় (Rishra Murder)। সেই পরিচয় থেকে প্রেম এবং পরে বিয়ে। সংসারও ভালোভাবেই চলছিল। তাঁদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। কাজের সূত্রে দীপঙ্কর দিল্লিতে থাকতেন। অন্যদিকে মনিকা স্থানীয় একটি কারখানায় সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। এরপর থেকেই স্ত্রীকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয় দীপঙ্করের মনে। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, মনিকা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে এই বিষয় নিয়েই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র অশান্তি হয়। তার পরেই ঘটে ভয়াবহ ঘটনা। অভিযোগ, মনিকাকে খুন করার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেননি দীপঙ্কর। বরং নিজের শ্যালিকাকে সামাজিক মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি মনিকাকে হত্যা করেছেন। সেই বার্তা পেয়ে মধ্যপ্রদেশে থাকা শ্যালিকা পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। এরপর বাড়িতে গিয়ে মনিকার দেহ উদ্ধার করা হয় (Rishra Murder)।
মনিকার বাবা জানিয়েছেন, সকালে ছোট মেয়ের কাছ থেকে ফোনে পুরো ঘটনার কথা জানতে পারেন। পরে বিকেলে খবর আসে, তাঁর জামাই মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, স্ত্রীকে খুন করার পর দীপঙ্কর প্রথমে বাড়িতেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় পরে কলকাতায় গিয়ে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দেন। পুরো ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ ছিল এবং অন্য কোনও দিক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।







