তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অশান্তি ও ভাঙনের জল্পনা যখন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে বা চাপ সৃষ্টি করে তৃণমূলকে ভাঙা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি মমতা (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেছিলেন, তিনি আর নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠক করবেন না। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা তিনি সমাজমাধ্যমের মাধ্যমেই তুলে ধরবেন। সোমবার দলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পর লাইভে এসে তিনি বলেন, তৃণমূলের বিধায়কদের নানা ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে পুলিশের তরফে ফোন করা হচ্ছে, পরে বিজেপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং দল ভাঙার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মমতা (Mamata Banerjee) দাবি করেন, কয়েকজন বিধায়ক তাঁকে জানিয়েছেন যে তাঁদের ইডি ও সিবিআইয়ের ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই ধরনের আচরণ কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কয়েকজন বিধায়ক বা সাংসদকে ভয় দেখিয়ে কিংবা প্রলোভন দিয়ে একটি রাজনৈতিক দলকে দুর্বল করা সম্ভব নয়।
লাইভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ছাত্রসমাজের প্রতিও আহ্বান জানান মমতা (Mamata Banerjee)। তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীরাই সমাজের মেরুদণ্ড। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁদের সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন আন্দোলনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
এর পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তৃণমূল নেত্রী (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, দলের কর্মীদের মিছিল, সভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে দেওয়া হচ্ছে না। বহু দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর দাবি, একাধিক আসনে অনিয়ম হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে পুনর্গণনার মাধ্যমে ফলাফল বদলে দেওয়া হয়েছে।
সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনাও তুলে ধরেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে এই হামলা করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, হেলমেট না থাকলে অভিষেকের প্রাণহানিও ঘটতে পারত। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্র আন্দোলন এবং অতীতের বিভিন্ন গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মমতা বলেন, মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য তিনি সবসময় লড়াই করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষের মাথা কখনও নত হবে না এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।










