দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে তিনি কালীঘাট তৃণমূলে থাকা সব সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফার ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগও করেন।
মদন মিত্র (Madan Mitra) দাবি করেন, তিনি তৃণমূল ছাড়েননি। তাঁর কথায়, তিনি শুধু এক শিবির থেকে অন্য শিবিরে এসেছেন। তবে দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য একজনকেই দায়ী করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের কারণেই তৃণমূলের এই পরিণতি হয়েছে এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি ভেঙে পড়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন পরিচিত ছিলেন মদন মিত্র (Madan Mitra)। তিনি দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যের দায়িত্বও সামলেছেন। কিন্তু বুধবার তিনি সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
এদিন নিজের গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছন মদন মিত্র (Madan Mitra)। সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা এবং বিদ্রোহী শিবিরের অন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর প্রকাশ্যেই নতুন শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েক দিনে তৃণমূলের অন্দরে একের পর এক নেতা শিবির বদল করায় দলের অস্বস্তি আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার রাতে সন্দীপন সাহার বাড়িতে মদন মিত্রের দীর্ঘ বৈঠকের পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বদলের জল্পনা শুরু হয়েছিল। বুধবার সেই জল্পনাই সত্যি হয়।
নতুন শিবিরে যোগ দিয়েই মদন মিত্র বলেন, তিনি এখনও তৃণমূলের আদর্শেই বিশ্বাস করেন। তবে তাঁর দাবি, দল কোনও একজন ব্যক্তির জন্য নয়। তাঁর অভিযোগ, একজনের সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্বের কারণেই দলের বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।













