ইরান যুদ্ধকে ঘিরে আমেরিকার রাজনীতি ও ধর্মীয় মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে (Pope Leo)। এই পরিস্থিতিতে পোপ লিওর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বুধবার মার্কিন কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে হাউস স্পিকার মাইক জনসন স্পষ্ট জানান, কোনও ধর্মীয় নেতা যদি রাজনীতির বিষয়ে মন্তব্য করেন, তাহলে তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হবেই (Pope Leo)।
তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতারা তাঁদের মতামত জানাতে পারেন, কিন্তু রাজনীতির বিষয়ে কথা বললে সমালোচনার মুখে পড়তেই হবে। পোপের (Pope Leo) সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলেও জানান। বিশেষ করে পোপের সেই বক্তব্য, যেখানে বলা হয়েছিল যুদ্ধের সঙ্গে জড়িতদের প্রার্থনা ঈশ্বর শোনেন না—এই মন্তব্যে তিনি আপত্তি জানান। জনসনের মতে, ‘ন্যায্য যুদ্ধ’ বলে একটি ধারণা রয়েছে, যা বহুদিন ধরেই স্বীকৃত।
সম্প্রতি পোপ লিও (Pope Leo) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এই নিয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। মার্চ মাসের শেষে পোপ প্রথমে ইরান নিয়ে সংযম দেখানোর আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, ট্রাম্প পরিস্থিতি শান্ত করার পথ খুঁজবেন। পরে তিনি আরও কড়া ভাষায় বলেন, কোনও দেশের সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়।
এরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, তিনি পোপের মতের সঙ্গে একমত নন। এমনকি পোপকে ‘দুর্বল’ বলেও আক্রমণ করেন। বিদেশনীতি নিয়েও পোপের সমালোচনা করেন তিনি। যদিও এই মন্তব্যের জন্য কোনওরকম দুঃখপ্রকাশ করেননি ট্রাম্প।
অন্যদিকে পোপ তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের বিরুদ্ধে তিনি সবসময়ই সরব থাকবেন। শান্তির বার্তাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, কোনও চাপের ভয় না পেয়ে তিনি এই বিষয়ে কথা বলে যাবেন।
এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সও। তাঁর মতে, ভ্যাটিকানের উচিত নৈতিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকা এবং আমেরিকার নীতি নির্ধারণের দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের উপর ছেড়ে দেওয়া।
এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার রাজনীতি ও ধর্মীয় মহলে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।










