বিতর্কিত আচরণের জেরে অবশেষে জেলে যেতে হল এক জনপ্রিয় লাইভস্ট্রিমারকে। দক্ষিণ কোরিয়ার (South Korea) একটি আদালত তাঁকে ছ’মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। যুদ্ধকালীন যৌন নির্যাতনের শিকার মহিলাদের স্মৃতিতে তৈরি একটি মূর্তিতে অশালীন আচরণ করার অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে (South Korea)।
এই যুবকের আসল নাম ইসমাইল র্যামসে খালিদ। তাঁর বিরুদ্ধে জনসমক্ষে অশান্তি সৃষ্টি এবং আপত্তিকর ডিজিটাল কনটেন্ট ছড়ানোর মতো একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে (South Korea)। জানা গিয়েছে, গত বছর তিনি ওই মূর্তির সামনে গিয়ে আপত্তিকর আচরণ করেন এবং সেই ভিডিও প্রকাশ করেন। এরপরই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
ইসমাইল র্যামসে খালিদ সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত কাজের জন্যই পরিচিত ছিলেন। বিভিন্ন দেশে ঘুরে জনসমক্ষে অদ্ভুত আচরণ করে ভিডিও বানাতেন তিনি। এর আগেও জাপান ও ইজরায়েলে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। জাপানে একটি রেস্তোরাঁয় গোলমাল করার জন্য তাঁকে জরিমানা দিতে হয়েছিল। ইজরায়েলেও একবার আটক করা হয় তাঁকে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় (South Korea) এই ঘটনা বিশেষভাবে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। কারণ, যে মূর্তিকে ঘিরে এই কাণ্ড, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যৌন নির্যাতনের শিকার বহু নারীর স্মৃতির প্রতীক। এই স্মৃতিস্তম্ভগুলি শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবির সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে।
ঘটনার পর ইসমাইল দাবি করেন, তিনি মূর্তির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি এবং ক্ষমাও চান। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি কেউই। আদালত জানায়, তিনি বারবার এমন কাজ করেছেন শুধুমাত্র অনলাইন জনপ্রিয়তা ও অর্থ লাভের জন্য, যা আইন ও সামাজিক মূল্যবোধকে অগ্রাহ্য করে।
যদিও সরকারি কৌঁসুলিরা তাঁর জন্য তিন বছরের জেল চেয়েছিলেন, আদালত ছ’মাসের সাজা ঘোষণা করে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলবে এবং আপাতত দেশ ছাড়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও কিছু বিধিনিষেধ মানতে হবে তাঁকে, বিশেষ করে শিশু বা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠছে, সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য কতটা সীমা লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং তার ফল কতটা ভয়াবহ হতে পারে।












