কলম্বিয়ায় (Colombia) ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল গোটা দেশ। শনিবার দক্ষিণ-পশ্চিমের কাওকা অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী বাসে আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে বাসটি দুই টুকরো হয়ে যায়। এই ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৮ জন। মৃত ও আহতদের মধ্যে অনেকেই শিশু বলে জানা গিয়েছে, যা ঘটনায় শোকের ছায়া আরও গভীর করেছে (Colombia)।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাজিবিও এলাকার প্যান আমেরিকান সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বাসের ভিতরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। আচমকা বিকট শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন যাত্রীরা (Colombia)। অনেকেই গুরুতর জখম হন। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বহু প্রাণ বাঁচানো যায়নি।
কলম্বিয়ার (Colombia) সেনা কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বলেই মনে করছে। সেনা আধিকারিকদের দাবি, এই হামলার পিছনে সক্রিয় রয়েছে কুখ্যাত অপরাধী গোষ্ঠী। বিশেষ করে ইভান মোরডিস্কোর দল এবং জাইমে মার্টিনেজ গোষ্ঠীর দিকে সন্দেহের আঙুল উঠছে। এই দুই গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই ওই অঞ্চলে সক্রিয় এবং মাদক পাচার ও হিংসার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে এই ধরনের উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সরকারের শান্তি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তারা সেই চুক্তি মানেনি বলেই অভিযোগ। সাম্প্রতিক সময়ে এই গোষ্ঠীগুলি বারবার সাধারণ মানুষ এবং প্রশাসনকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন দেশের রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো। তিনি বলেছেন, নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে আদিবাসী ও শিশুদের উপর এই ধরনের হামলা বরদাস্ত করা যায় না। এই ধরনের শক্তিকে তিনি সন্ত্রাসবাদী ও মাদক পাচারকারী বলেই উল্লেখ করেছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই দিনেই দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ায় একশোর বেশি হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং গোটা দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।











