ইরানের সঙ্গে চলা উত্তেজনার (Iran War) মধ্যেই এবার সাহায্যের হাত বাড়াল ভারত। যুদ্ধে আহতদের জন্য তেহরানে বিপুল পরিমাণ ওষুধ পাঠিয়েছে দিল্লি। জানা গিয়েছে, প্রায় কুড়ি হাজার কেজি ওষুধ নিয়ে একটি বিমান দিল্লি থেকে ইরানের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এর বদলে হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজ চলাচলে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান।
এর আগেও ভারত থেকে জাহাজে করে প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার কেজি ওষুধ ইরানে পাঠানো হয়েছে (Iran War)। এছাড়া দিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাসকে অনুদান হিসেবেও অর্থ দেওয়া হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজ আটকানো হবে না এবং কোনও টোলও নেওয়া হবে না।
তবে এই পরিস্থিতিতে ভারতের জ্বালানি সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে (Iran War)। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জাহাজ আটকানো হলে প্রতিবেশী দেশের বন্দরে হামলা চালানো হতে পারে।
এই উত্তেজনার মধ্যে ইউরোপের দেশগুলি উদ্যোগ নিয়েছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শুরু হয়েছে (Iran War)।
এদিকে দীর্ঘ সাত বছর পর আবার ভারতে পৌঁছেছে ইরানের অপরিশোধিত তেল। একটি জাহাজ প্রায় দুই মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে গুজরাটের সিক্কা বন্দরে এসেছে। একই পরিমাণ তেল নিয়ে আরেকটি জাহাজ পৌঁছেছে ওড়িশার পারাদ্বীপ উপকূলে। এই তেল যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরান উপকূল থেকে পাঠানো হয়েছিল এবং এতদিন সমুদ্রে আটকে ছিল।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে মার্কিন নৌ অবরোধ। একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে ওই অঞ্চলে। জানা গিয়েছে, পনেরোরও বেশি যুদ্ধজাহাজ সেখানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিয়েছে চিন। তারা জানিয়েছে, ইরান ও চিনের বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না।
এই সমস্ত ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং তার প্রভাব বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।












