গুন্ডাদমন বিল নিয়ে শুক্রবার রাতে আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটি সই না করে ফেরত পাঠিয়েছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছিল, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ছিল, বিলটি তখনও রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়নি। ফলে সেটি ফেরত আসার প্রশ্নও ওঠে না।
রাত পৌনে ১০টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠকে এসে শুভেন্দু বলেন (CM Suvendu Adhikari), গুন্ডাদমন বিল নিয়ে অযথা ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “গল্পের গরু গাছে তুলবেন না।” এমনকি যাঁরা এই খবর নিয়ে আলোচনা করছেন, তাঁদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “যান ডিনার করে শুয়ে পড়ুন।”
মুখ্যমন্ত্রীর (CM Suvendu Adhikari) ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তথাকথিত গুন্ডাদমন বিলের দুটি অংশ রয়েছে। তার মধ্যে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত একটি অংশ আগেই কার্যকর হয়েছে বলে তিনি জানান। অন্য অংশটি তখনও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পর্যায়ে রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় কাজ চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ওই অংশ এখনও রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়নি।
তবে এই বক্তব্যের পরেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একই দিনে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন এবং প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্যে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের গুন্ডাদমন বিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন। কেন্দ্রের তরফে বিলের একটি ধারার সঙ্গে মাদক সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় আইনের সম্ভাব্য সংঘাতের বিষয়টি তোলা হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির আপত্তির মূল জায়গা হিসেবে উঠে এসেছে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত আইনের ধারাগুলি। কেন্দ্রের বক্তব্য ছিল, ওই বিধান মাদক সংক্রান্ত অপরাধে প্রতিরোধমূলক আটকের একটি পৃথক ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে, যা বিদ্যমান কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট অংশটি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গুন্ডাদমন বিলটি চলতি বছরের জুনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হয়। বিলটিতে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো একাধিক বিধান রয়েছে। তবে বিলটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে কার্যকর হয়নি। কলকাতা হাই কোর্টও এর আগে জানিয়েছিল, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন না থাকায় বিলটিকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলা সেই পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নয়।
ফলে শুক্রবার রাতের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এবং একই সময়ের পরবর্তী প্রশাসনিক ও সংবাদ প্রতিবেদন মিলিয়ে গুন্ডাদমন বিল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যে সময় সাংবাদিক বৈঠক করেছিলেন, সেই সময় বিলটির অবস্থান সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য ছিল সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়নি। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠিয়েছেন। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে সময়ের পার্থক্য এবং বিলের গতিপথ নিয়েই এখন মূল আলোচনা।













