কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। বেনারসি শাড়ি এবং জবার মালা দিয়ে দেবীর পুজো করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেতেই দেবীকে ইলিশ, চিংড়ি এবং ভেটকি-সহ একাধিক মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। পুজো শেষে মাটিতে বসেই সেই ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন তিনি।
কালীঘাটে এ দিনের ভোগের আয়োজনে ছিল পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, শুক্তো, ডাল, সবজি, পনির এবং বিভিন্ন ধরনের মাছ। ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে এবং কাতলা মাছের পাশাপাশি ছিল কাতলা মাছের মাথাও। ছিল নিরামিষ এবং বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস ও চাটনি। পুজো শেষে মুখ্যমন্ত্রীর পাতে দেখা যায় পোলাও, মাছের মাথা এবং পায়েস।
সম্প্রতি দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। এই পরিস্থিতিতে কালীঘাট মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রীর আমিষ ভোগ গ্রহণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
মন্দির থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari) বলেন, একজন সন্ত নিজের মত প্রকাশ করেছেন। যাঁর সেই মত গ্রহণ করার ইচ্ছা রয়েছে, তিনি করবেন, না হলে করবেন না। তাঁর নিজের খাদ্যাভ্যাসের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari) বলেন, অষ্টমীর দিন তিনি সাত্ত্বিক আহার করেন। কার্তিক মাসেও সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। তবে বাঙালি হিসেবে দেবীকে যে মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়, তিনি সেই ভোগও গ্রহণ করেন। পাশাপাশি পাঁঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি (CM Suvendu Adhikari)।
কালীঘাটের ভোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী (CM Suvendu Adhikari) বলেন, দুপুরে মন্দিরে মাছের মাথা, মাছ ভাজা এবং বাসন্তী পোলাও দেওয়া হয়েছিল। তিনি সেই ভোগ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সনাতন সংস্কৃতি জাগ্রত থাকবে এবং গেরুয়া ধ্বজ সবসময় উপরে থাকবে।
কৌশিকী অমাবস্যার মতো বিশেষ তিথিতে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে এসে শুভেন্দুর এই বক্তব্য এবং আমিষ ভোগ গ্রহণ নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।











