নব্বইয়ের দশক থেকে বলিউডের পরিচিত মুখ মুশতাক খান (Mushtaq Khan)। একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। তবে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা অভিনেতা রাজপাল যাদব। কারণ, মৃত্যুর মাত্র দু’ঘণ্টা আগেই হাসপাতালে গিয়ে মুশতাকের (Mushtaq Khan) সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি।
সেই শেষ সাক্ষাতের একটি ভিডিয়ো এখন সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে রয়েছেন অসুস্থ মুশতাক (Mushtaq Khan)। তাঁর শরীরে অসুস্থতার ছাপ স্পষ্ট। পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুকে সাহস দিচ্ছেন রাজপাল। তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র সব ঠিক হয়ে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।”
অসুস্থ অবস্থাতেও বন্ধুর হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন মুশতাক (Mushtaq Khan)। রাজপালের কথা মন দিয়ে শুনছিলেন এবং সাড়াও দিচ্ছিলেন। সেই সময় উপস্থিত কেউই ভাবতে পারেননি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সাক্ষাৎ চিরদিনের জন্য শেষ দেখা হয়ে যাবে।
প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে কার্যত ভেঙে পড়েছেন রাজপাল। সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট করে নিজের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন তিনি। রাজপাল লিখেছেন, দুপুরে তিনি মুশতাকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। মুশতাক তাঁকে দেখেছিলেন এবং তাঁর হাত ধরেছিলেন। অথচ মাত্র দু’ঘণ্টা পরেই তিনি আর তাঁদের মধ্যে নেই—এই সত্য এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন রাজপাল।
বন্ধুর মৃত্যু মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে যে অত্যন্ত কঠিন, সেই কথাও জানিয়েছেন অভিনেতা। ঈশ্বরের সিদ্ধান্তের সামনে সবাইকে মাথা নত করতে হয় বলেও নিজের পোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি।
বেশ কিছু দিন ধরেই লিভারের ক্যানসারে ভুগছিলেন মুশতাক। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার তাঁকে মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁকে রাখা হয়েছিল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তাঁর।
মুশতাকের অভিনয়জীবন ছিল দীর্ঘ। কমেডি চরিত্র থেকে শুরু করে গম্ভীর চরিত্র—বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় তাঁকে দেখেছেন দর্শক। ‘ওয়েলকাম’-এর মতো জনপ্রিয় ছবিতেও তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল। পর্দায় সময় কম পেলেও নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেওয়াই ছিল তাঁর বিশেষত্ব।
তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বলিউডে শোকের আবহ। তবে বন্ধুকে হারানোর যন্ত্রণা সবচেয়ে কাছ থেকে অনুভব করছেন রাজপাল। মৃত্যুর মাত্র দু’ঘণ্টা আগে যে বন্ধুর হাত ধরে তাঁকে সাহস দিচ্ছিলেন, সেই মানুষটির সঙ্গে দেখা যে তাঁর শেষ সাক্ষাৎ হয়ে যাবে, তা তখন ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি তিনি।








