সকাল পর্যন্ত ছিল রোদঝলমলে আকাশ। কিন্তু দুপুর গড়াতেই আচমকা বদলে যায় আবহাওয়া। কালো মেঘে ঢেকে যায় কলকাতার আকাশ (Kolkata)। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি, সঙ্গে একের পর এক বজ্রপাত। ভরদুপুরে যেন নেমে আসে সন্ধ্যা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কমে যায় দৃশ্যমানতা। মুহূর্তের মধ্যেই তৈরি হয় দুর্যোগের পরিস্থিতি।
আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা (Kolkata) ও সংলগ্ন এলাকায় তিনশোরও বেশি বজ্রপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক বজ্রপাত ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রগর্ভ মেঘের দ্রুত বিস্তার এবং তার ভেতরে তীব্র বৈদ্যুতিক ক্রিয়ার ফলেই এত বেশি বজ্রপাত হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ড হয়ে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপর দিয়ে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে (Kolkata)। তার প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
আবহবিদদের মতে, এদিন আকাশে বিশাল বজ্রগর্ভ মেঘের স্তম্ভ তৈরি হয়েছিল। সেই মেঘ থেকেই লাগাতার বজ্রপাত হয়েছে। তাই বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতের ঘটনাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে বর্ষা মরশুম ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এল নিনো পরিস্থিতি নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, চলতি মরশুমে বৃষ্টির ধরনে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও আবার বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার কলকাতার এই প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সঙ্গে সরাসরি সেই প্রভাবের সম্পর্ক নেই বলেই মত আবহবিদদের (Kolkata)।
প্রবল বৃষ্টি, ঘনঘন বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিনও আবহাওয়ার এমন ওঠানামা চলতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দপ্তর।













