বহু দুর্ঘটনা এবং বিপর্যয়ের সাক্ষী থেকেছে কলকাতা। কিন্তু বুধবার তারাতলায় (Taratala) যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেল, তা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন শহরবাসী। নির্মীয়মাণ তিনতলা বাণিজ্যিক ভবন আচমকাই ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লোহার বিম, কংক্রিটের চাঁই এবং নির্মাণসামগ্রীর নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। ঘটনাস্থলে শুরু হয় প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া লড়াই। এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে (Taratala) । আহত ও উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের একাধিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দুর্ঘটনার (Taratala) পর দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করতে নামানো হয় সেনাবাহিনী, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, দমকল এবং পুলিশকে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়। বিশাল লোহার বিম কেটে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা চালানো হয়। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় ভার্টিক্যাল ড্রিল মেশিন, অ্যাঙ্গেল কাটার, ডায়মন্ড কাটিং যন্ত্র, এয়ার প্লাজমা কাটিং যন্ত্র, কর্ডলেস হ্যামার এবং একাধিক ভারী ক্রেন।
রাজ্য সরকারের তরফে সেনার সাহায্য চাওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যেই শতাধিক সেনাকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। প্রথমে গ্যাস কাটারের সাহায্যে লোহার বিম কেটে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা হয় (Taratala) । পরে বড় ক্রেন দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়। পাশাপাশি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে গর্ত তৈরি করে নিচে নেমেও তল্লাশি চালানো হয়।
উদ্ধারকারীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা শ্রমিকদের খুঁজে বের করতে আলোকসজ্জা, ড্রোন এবং উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত বহুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উদ্ধারকারী বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরই সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছিল এবং দ্রুততার সঙ্গে তারা উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। অন্যদিকে, দ্রুত পদক্ষেপ এবং সমন্বিত অভিযানের ফলে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে এখন একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে নির্মীয়মাণ ভবনটি ভেঙে পড়ল, নির্মাণকাজে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শেষ হলেই সামনে আসতে পারে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।












