তারাতলার ভয়াবহ গুদাম ধসের ঘটনার পর ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধার মুখে পড়লেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। নির্মীয়মাণ গুদামটি চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুমোদন পেয়েছিল। সেই সময় কলকাতা পুরসভার মেয়র ছিলেন ফিরহাদ (Firhad Hakim)। দুর্ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই তিনি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছতে পারেননি।
বুধবার দুপুরে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে তারাতলার নির্মীয়মাণ তিনতলা গুদাম। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। খবর পেয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা এবং একাধিক মন্ত্রী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। উদ্ধারকাজের তদারকি শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
এই পরিস্থিতিতে ফিরহাদ হাকিমও (Firhad Haki(Firhad Hakim) ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাঁকে (Firhad Hakim) সেখানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর আগে স্থানীয় কাউন্সিলর আনোয়ার খান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন। সেই ঘটনার পর নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই সতর্ক ছিল প্রশাসন। শেষ পর্যন্ত ফিরহাদকে মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে হয়। পরে তিনি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন রোহিত চৌধুরী, কৃষ্ণ চৌধুরী এবং এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আঠারো জনকে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স এবং বিশেষ গ্রিন করিডর।
এসএসকেএম হাসপাতালে একাধিক আহত শ্রমিকের চিকিৎসা চলছে। দুর্ঘটনাস্থলেও খোলা হয়েছে অস্থায়ী চিকিৎসা শিবির। দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনা এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তারাতলার এই বিপর্যয় ঘিরে নির্মাণের মান, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।













