মেসিকাণ্ডে গ্রেফতারির আশঙ্কা করে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Aroop Biswas)। তবে আদালত তাঁকে কোনও রকম রক্ষাকবচ দেয়নি। বুধবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পুলিশের ডাকা হলে তদন্তে হাজিরা দিতেই হবে অরূপ বিশ্বাসকে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা দেওয়া যাবে না এবং তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।
আদালত জানিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসকে (Aroop Biswas) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকার ক্ষেত্রে পুলিশকে অন্তত আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। তবে তদন্তের উপর কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। আদালতের মতে, তদন্ত নিজের নিয়মেই চলবে।
শুনানির সময় অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) উপর একাধিক শর্তও আরোপ করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি রাজ্যের বাইরে যেতে পারবেন না। তাঁর পাসপোর্ট নিম্ন আদালতে জমা রাখতে হবে। পাশাপাশি কোনও সাক্ষীকে প্রভাবিত করা বা ভয় দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পুলিশকেও বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতি জানিয়েছেন, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার তদন্ত হবে। কেন এমন ঘটনা ঘটেছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। চার সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত জানিয়েছে, এই মুহূর্তে অরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা যাবে না।
এদিন অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, তাঁর মক্কেলকে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও পাথর ছোড়া হতে পারে। সেই প্রসঙ্গে আদালত জানতে চায়, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অন্য কোনও মামলা রয়েছে কি না। সেই তথ্যও আদালতে জানাতে বলা হয়েছে।
শুনানির সময় গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই ঘটনা রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। মেসির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতি জানতে চান, কীভাবে অরূপ বিশ্বাস এত কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন। তাঁর মন্তব্য, বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মেসি গিয়েছেন, কিন্তু এমন ঘটনা অন্য কোথাও ঘটেনি।
বিচারপতি আরও বলেন, অসংখ্য মানুষ মেসিকে দেখতে মাঠে এসেছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তাঁকে নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যেতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ভেঙে যায় এবং গোটা ঘটনায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। তিনি এই বিষয়েও আলাদা করে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
শুনানির সময় বিচারপতি অরূপ বিশ্বাসের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, পুলিশ দেখা করতে বললেও কেন তিনি যাচ্ছেন না। উত্তরে আইনজীবী জানান, আদালত সুরক্ষা দিলে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন।
রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে দাবি করা হয়, অরূপ বিশ্বাস প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তিনি তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে বা সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন। অতীতে পুলিশের পাঠানো নোটিসও তিনি মানেননি বলে অভিযোগ করা হয়। তাই তাঁকে কোনও বিশেষ রক্ষাকবচ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই সওয়াল করে রাজ্য।
তবে সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত প্রাথমিকভাবে মনে করেছে, এই মুহূর্তে অরূপ বিশ্বাসকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। বিচারপতি এও উল্লেখ করেন, ঘটনাটি ঘটেছিল দুই হাজার পঁচিশ সালের ডিসেম্বর মাসে, অথচ অভিযোগ দায়ের হয়েছে প্রায় ছয় মাস পরে। সেই পরিস্থিতিতে এতদিন পর সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা কতটা বাস্তব, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মেসিকাণ্ড নিয়ে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতি এবং পরবর্তী শুনানির দিকে।












