বেঙ্গল এসটিএফ এবং জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানকে (Jahangir Khan) বাংলা-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সকালে এই অভিযানের পরই ফলতায় তাঁর বাড়ি এবং দলীয় কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় পৌঁছতেই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জাহাঙ্গিরের (Jahangir Khan) বাড়ি ও পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাঙ্গিরের (Jahangir Khan) দলীয় কার্যালয়ের সামনে দ্রুত ভিড় জমতে শুরু করে। এরপর উত্তেজিত জনতা অফিসে ঢুকে টেবিল, চেয়ার, টেলিভিশন-সহ একাধিক আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। তাঁর নির্মীয়মাণ বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। কিছু স্থানীয়ের দাবি, পার্টি অফিসের ভিতরে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত ছিল। সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করে আরও উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় (Jahangir Khan)।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনকে মিষ্টি বিলি করতেও দেখা যায়। গ্রেপ্তারের খবরে অনেকেই প্রকাশ্যে উচ্ছ্বাস দেখান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। তবে ভোটের দু’দিন আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান জাহাঙ্গির খান। তারপর থেকেই তিনি কার্যত জনসমক্ষে দেখা দেননি।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি (Jahangir Khan) দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে ছিলেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকি নেপালে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন বলে তদন্তকারীদের অনুমান। সন্তানদের নেপালের একটি স্কুলে ভর্তি করার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, জাহাঙ্গির (Jahangir Khan) নিজের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করেছিলেন। তবে নতুন নম্বরের সূত্র ধরেই তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পায় তদন্তকারীরা। এরপর বাংলা-নেপাল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালানোর চেষ্টা করছিলেন তিনি।
বর্তমানে জাহাঙ্গির খানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।










