Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • জেলা
  • মায়ের খুনের সাক্ষী একাদশবর্ষীয় ছেলে! পুলিশের কাছে যা বলল, তাতেই শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরা
জেলা

মায়ের খুনের সাক্ষী একাদশবর্ষীয় ছেলে! পুলিশের কাছে যা বলল, তাতেই শিউরে উঠছেন তদন্তকারীরা

professor murder case
Email :1

দিল্লির অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল হত্যাকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া রামপ্রসাদ দাস এবং তাঁর স্ত্রী বনশ্রী দাসকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। সোমবার তাঁদের বর্ধমান আদালতে তোলা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের একাদশবর্ষীয় ছেলেকে শিশু কল্যাণ কমিটির সামনে পেশ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই নাবালকই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারে (Delhi Police)।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনার সময় ছেলেটি ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিল। তদন্তকারীদের (Delhi Police) কাছে সে জানিয়েছে, কীভাবে তার বাবা-মা দেবস্মিতা পালকে খুন করেছিলেন। সেই কারণেই তাকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশ চাইছে তাকে তদন্তের স্বার্থে দিল্লিতে নিয়ে যেতে। আপাতত তাকে তার দিদিমার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, গত দুই জুন রামপ্রসাদ, বনশ্রী এবং তাদের ছেলে ট্রেনে করে দিল্লি যায়। বর্ধমানের বাড়ির ভাড়ার বিষয় নিয়ে কথা বলার অজুহাতে দেবস্মিতা পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। দরজা খোলার পর তাঁর উপর আচমকা হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো ক্ষুর দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়।

পুলিশের (Delhi Police) দাবি, খুনের পর অভিযুক্তরা পোশাক বদলে এলাকা ছাড়ে। পরে ট্যাক্সি ও অটো ধরে রেলস্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে করে বর্ধমানে ফিরে আসে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দিল্লিতে থাকার সময় একটি অতিথিশালায় ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে নিজের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করায় শেষ পর্যন্ত তদন্তকারীদের পক্ষে অভিযুক্তদের খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

দেবস্মিতা পালের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। বর্ধমানের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নিয়েছিল রামপ্রসাদদের পরিবার। অভিযোগ, নিয়মিত ভাড়া দেওয়া নিয়ে সমস্যা ছিল। সম্প্রতি বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল তাঁদের। সেই ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের (Delhi Police) আরও দাবি, ওই বাড়ি বিক্রির নাম করে কয়েকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাড়ির মালিকানা নিয়ে জটিলতা থাকায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এরপর থেকেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে অভিযুক্তদের মধ্যে।

সোমবার বর্ধমানে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ খুনে ব্যবহৃত ক্ষুর, পোশাক, টুপি, মুখোশ এবং দেবস্মিতা পালের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের মতে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নাবালক ছেলের বয়ান এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তার বক্তব্যের ভিত্তিতেই মামলার আরও বহু অজানা তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts