আরাবল্লী পাহাড়ে খনন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট জমা না পড়া পর্যন্ত কোনও ধরনের খননের অনুমতি দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল দেশের শীর্ষ আদালত।
শনিবার এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, আদালতের (Supreme Court) গঠন করা বিশেষজ্ঞ কমিটি আরাবল্লী পাহাড়ের নতুন সংজ্ঞা না দেওয়া পর্যন্ত কোনও জমিতে খননের কাজ করা যাবে না।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরাবল্লীর নতুন সংজ্ঞা না পাওয়া পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিতেও হাত দেওয়া যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “শক্তিশালী খনি লবির কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। আদালতের অবস্থান স্পষ্ট, আরাবল্লী পাহাড়কে রক্ষা করতেই হবে।”
শীর্ষ আদালতের (Supreme Court) এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আরাবল্লী পাহাড়ে বেআইনি খননের ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
প্রায় পাঁচ মাস আগে সুপ্রিম কোর্টের গঠন করা বিশেষজ্ঞ কমিটি আরাবল্লীর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের কাজ শুরু করে। সেই রিপোর্ট এখনও জমা পড়েনি। রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে এগোতে রাজি নয় আদালত।
আরাবল্লী পাহাড় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছিল গত বছর। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক একটি সংজ্ঞা দেয়, যেখানে বলা হয়, আশপাশের এলাকার চেয়ে ১০০ মিটার বা তার বেশি উচ্চতার ভূমিকে আরাবল্লী পাহাড় হিসেবে ধরা হবে (Supreme Court)।
তবে এই সংজ্ঞার সঙ্গে একমত ছিল না সুপ্রিম কোর্টের বিশেষজ্ঞ কমিটি। তা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বিআর গভাইয়ের বেঞ্চ কেন্দ্রের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছিল।
এরপরই রাজস্থান এবং হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ শুরু হয়। পরিবেশপ্রেমীদের অভিযোগ ছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে আরাবল্লী পাহাড়ে বেআইনি খনন আরও বাড়বে (Supreme Court)।
একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, গত সাত বছরে শুধু রাজস্থানেই ৭১ হাজারের বেশি বেআইনি খননের ঘটনা ঘটেছে। এর বেশিরভাগই আরাবল্লী সংলগ্ন এলাকায়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলায় হস্তক্ষেপ করে সুপ্রিম কোর্ট। তখনই আদালত জানিয়ে দেয়, আগের রায় আপাতত কার্যকর হবে না।
শনিবারের নির্দেশের পর স্পষ্ট, এখন বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের উপরেই নির্ভর করছে আরাবল্লী পাহাড়ের ভবিষ্যৎ।








