রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতেই এবার কালীঘাটে জরুরি বৈঠক ডাকলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে এই বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে রাজ্যের ২০টি জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতি এবং কর্মাধ্যক্ষদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে রাজ্যের সবকটি জেলা পরিষদই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। তবে গেরুয়া শিবির সূত্রে দাবি, রাজ্যে সরকার বদলের পর একাধিক জেলা পরিষদ সদস্য নীরবে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও রাজ্য বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, তৃণমূলের কাউকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই (Mamata Banerjee)।
এদিকে ভোটের প্রচারের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন করা হবে। সেই ঘোষণার পর থেকেই প্রশাসনিক মহলে জেলা পরিষদে প্রশাসক বসানোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই আবহেই কালীঘাটে জেলা পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক থেকেই অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে যাবে জেলা পরিষদের সদস্যদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান।
সম্প্রতি বিভিন্ন জেলায় দলের পর্যালোচনা বৈঠকে বহু জেলা পরিষদ সদস্যের অনুপস্থিতি তৃণমূল নেতৃত্বের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শুধু সদস্যরাই নন, অনেক কর্মাধ্যক্ষও বৈঠকে হাজির ছিলেন না বলে খবর।
বিশেষ করে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের বৈঠকে ৪২ জন জেলা পরিষদ সদস্যের মধ্যে ২৪ জনের অনুপস্থিতি দলকে চাপে ফেলেছে। যদিও এখনও সব জেলা পরিষদেই তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবু সদস্যদের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের জল্পনাকে হালকাভাবে নিতে চাইছে না দল (Mamata Banerjee)।
সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতি নিয়েই রবিবারের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা পরিষদগুলিকে শক্তভাবে ধরে রাখার কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
অন্যদিকে পুরুলিয়ার জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতাও আলাদা বৈঠক ডেকেছেন। আগে সেই বৈঠক সোমবার হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা পিছিয়ে মঙ্গলবার করা হয়েছে। ফলে কালীঘাটের বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।













