প্রবল বৃষ্টিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সিকিমে (Sikkim)। একের পর এক ভূমিধস এবং হড়পা বানের জেরে বিপর্যস্ত পাহাড়ি এলাকা। নাথু-লা রোডে ধস নামায় আটকে পড়েন শতাধিক পর্যটক। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে তাঁদের উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে ভুটানেও টানা ভারী বৃষ্টির জেরে নদী ও ঝোরার জল রাস্তায় উঠে এসেছে। পাহাড়ি এলাকার এই প্রবল বৃষ্টির জল সমতলে নামতে শুরু করায় তিস্তা, তোর্সা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় উদ্বেগ বাড়ছে (Sikkim)।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শনিবার দুপুরে একটানা বৃষ্টির জেরে নাথু-লা রোডে বড়সড় ভূমিধস নামে। এর ফলে গ্যাংটকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রাস্তার মাঝে আটকে পড়েন বহু পর্যটক। জানা গিয়েছে, তাঁরা নাথু-লা এবং বাবা হরভজন সিং মন্দির ঘুরে ফেরার পথে বিপদের মুখে পড়েন (Sikkim)।
প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আটকে থাকার পর সেনাবাহিনীর ত্রিশক্তি কর্পস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তীব্র ঠান্ডা, পিচ্ছিল রাস্তা এবং প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও সেনা জওয়ানরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনেন।
সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, রাস্তা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আটকে পড়া পর্যটকদের জন্য গরম খাবার, পানীয় জল এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে (Sikkim)।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে দিকচু-সিংতাম সড়কের পাশেও ধস নামে। তিনটেক খোলা উত্তাল হয়ে ওঠায় রাস্তার একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে মেরামতির কাজ শুরু হয়। অন্যদিকে একটি ট্রাক ধসে আটকে পড়ায় ইন্দিরা বাইপাস থেকে এসটিএনএম হাসপাতালমুখী যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়েছে।
উত্তর সিকিমের মিয়াং চু নদীতেও হড়পা বানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একাধিক নদীর জল বিপজ্জনকভাবে ফুলে ওঠায় প্রশাসন সতর্কতা জারি করেছে (Sikkim)।
সিকিমের ভারী বর্ষণের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে উত্তরবঙ্গেও। তিস্তা নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং ভুটান পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টি চলছে। তোর্সা, তিতি, বাংড়ি-সহ একাধিক নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে।
জয়গাঁও শহরে তোর্সা নদীর জল ঢুকে ভারত-ভুটান সড়কের একাংশ ডুবে গিয়েছে। টোটোপাড়ার সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর মিলেছে।
আবহাওয়া দপ্তরের সিকিম কেন্দ্রের অধিকর্তা গোপীনাথ রাহা জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে আরও বৃষ্টি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।













