বাংলার নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন জঙ্গলমহলের পরিচিত মুখ ক্ষুদিরাম টুডু (Khudiram Tudu)। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। তাঁর শপথের পর থেকেই জঙ্গলমহলে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। আদিবাসী সমাজের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ ক্ষুদিরাম। রাজনৈতিক মহলের মতে, তাঁকে মন্ত্রী করে জঙ্গলমহল এবং পিছিয়ে পড়া আদিবাসী সমাজের উদ্দেশে বড় বার্তা দিল বিজেপি (Khudiram Tudu)।
বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্র মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। একসময় এই জঙ্গলমহল মাওবাদী কার্যকলাপের জন্য বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছিল। বহু বছর ধরে এলাকা ছিল সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি। সেই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বামেদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু (Khudiram Tudu)। একাধিকবার ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও পরাজিত হয়েছেন। কিন্তু কখনও রাজনীতি বা মানুষের জন্য কাজ করা ছাড়েননি।
ক্ষুদিরাম টুডু (Khudiram Tudu) মূলত ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল নামে একটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আদিবাসী সমাজের অধিকার, সাঁওতালি ভাষা এবং সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত পরিচিত নাম। পেশায় তিনি একজন স্কুলশিক্ষক। এলাকায় সমাজসেবক হিসেবেও তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। বহু বছর ধরে আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন এবং শিক্ষার প্রসারে কাজ করে গিয়েছেন তিনি।
শনিবার ব্রিগেডের মঞ্চে অলচিকি ভাষায় শপথ নেন ক্ষুদিরাম টুডু। সেই মুহূর্ত ঘিরে আবেগ দেখা যায় জঙ্গলমহলের মানুষের মধ্যে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল যে আদিবাসী সমাজ এবং জঙ্গলমহলের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছে তারা।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রানিবাঁধ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদাকে বড় ব্যবধানে হারান ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি মোট ১ লক্ষ ৩১ হাজার ১৪৫ ভোট পান। জয়ের ব্যবধান ছিল ৫২ হাজার ২৬৯ ভোট। এই বড় জয়ের পরই তাঁর মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল।













