একদিকে জগদ্দলে বিজেপি প্রার্থীদের উপর হামলার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, অন্যদিকে বর্ধমানেও নতুন করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার মাঝেই পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বর্ধমান পৌরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল ভকতকে (TMC Councilor)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত ২৪ মার্চ বর্ধমানের বালামহাট এলাকায় বিজেপি নেতা মহাদেব মালের বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তিনি বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রর সঙ্গে এলাকায় প্রচার করছিলেন। সেই সঙ্গে নিজের বাড়িতে বিজেপি কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করেছিলেন (TMC Councilor)।
অভিযোগ, সেই ঘটনার পর গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়। মহাদেব মালের দাবি, তৃণমূল সমর্থিত দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে। এতে তাঁর পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বর্ধমান থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই সময় সেখানে উপস্থিত হন কাউন্সিলর নাড়ুগোপাল ভকত (TMC Councilor)। অভিযোগ, এক পুলিশকর্মীর সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে এবং তিনি পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন। এমনকি তিনি বলেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া পুলিশ এলাকায় ঢুকতে পারবে না। এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আসে।
পরবর্তীতে কমিশনের নির্দেশে কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, এটি প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ এবং স্পষ্ট দাদাগিরির প্রকাশ।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেতা বাগবুল ইসলাম দাবি করেছেন, নিশ্চিত পরাজয় বুঝে বিজেপি বিভিন্ন সংস্থা ও কমিশনকে ব্যবহার করে রাজ্যে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে তৃণমূল নেতাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেছেন, দাদাগিরি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যারা আইন ভাঙবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।













