Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • বিদেশ
  • শান্তির দূত হতে গিয়েই বড় ধাক্কা! আমেরিকা-ইরান ইস্যুতে মুখ থুবড়ে পড়ল পাকিস্তান
বিদেশ

শান্তির দূত হতে গিয়েই বড় ধাক্কা! আমেরিকা-ইরান ইস্যুতে মুখ থুবড়ে পড়ল পাকিস্তান

pakistan qq
Email :5

এক সপ্তাহ আগেও আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে আসতে চেয়েছিল পাকিস্তান (Pakistan)। তাদের ধারণা ছিল, দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় তারা সহজেই আলোচনা শুরু করাতে পারবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের তেলের জাহাজ নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করাও ছিল তাদের লক্ষ্য। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা উল্টো ফল দিল (Pakistan)।

খবর অনুযায়ী, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা পাকিস্তানের (Pakistan) মাটিতে আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনও বৈঠকে বসবে না। এতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগ বড় ধাক্কা খেয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকা সত্ত্বেও এই মধ্যস্থতার চেষ্টা ইরান এবং উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি করেছে। এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও পাকিস্তানের উপর চাপ বাড়িয়ে দ্রুত ঋণ শোধ করার দাবি জানিয়েছে (Pakistan)।

সব মিলিয়ে, সব পক্ষকে খুশি করার চেষ্টা করতে গিয়ে পাকিস্তান (Pakistan) কারওই আস্থা অর্জন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক মহলে এই কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান নিজের ক্ষমতার চেয়ে বেশি দায়িত্ব নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে।

এর বিপরীতে ভারত অনেকটাই সতর্ক পথ নিয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত তেলের উৎস বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে এবং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তার দিকে নজর রেখেছে। ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনওভাবেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দালালের ভূমিকা নেবে না।

পাকিস্তান মূলত বার্তাবাহক হিসেবেই কাজ করেছে। মার্চ মাসে তারা আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দেয়। কিন্তু ইরান সেই প্রস্তাবের পাল্টা নিজেদের শর্ত দেয় এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তারা পাকিস্তানে কোনও প্রতিনিধি পাঠাবে না। ফলে আলোচনা শুরুই করা সম্ভব হয়নি।

এই অবস্থায় তুরস্ক ও মিশর এখন অন্য জায়গায় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে। কাতার বা ইস্তানবুলে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে স্পষ্ট, পাকিস্তানের উপর ইরানের আস্থা কমেছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ঋণ ফেরতের চাপ পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। প্রায় সাড়ে তিনশো কোটি ডলারের ঋণ দ্রুত শোধ করতে বলা হয়েছে। আগে এই ধরনের ঋণ শোধের জন্য সময় দেওয়া হলেও এবার পরিস্থিতি বদলেছে।

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের অর্থনীতিতে পড়েছে। জ্বালানির দাম বেড়েছে, সরকারি খরচ কমানো হয়েছে, এমনকি স্কুল বন্ধ রাখা এবং বাড়ি থেকে কাজের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, শান্তি আনার চেষ্টা করতে গিয়ে পাকিস্তান এখন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই দিক থেকেই চাপে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের অবস্থান মজবুত করতে গিয়ে এবার উল্টো সমস্যার মুখে পড়ল ইসলামাবাদ।

 

Related Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts