পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে (PM Modi)। গ্যাসের জোগানে সমস্যা তৈরি হওয়ায় দেশের বহু জায়গায় সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, যেমন ভাবে ভারত করোনা মহামারির মতো কঠিন সময় কাটিয়ে উঠেছিল, তেমন ভাবেই এই গ্যাস সংকটও সামাল দেওয়া সম্ভব হবে (PM Modi)।
শুক্রবার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের একশো চল্লিশ কোটিরও বেশি মানুষের উপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ যাতে কোনও বড় সমস্যার মুখে না পড়েন, সে জন্য কেন্দ্রীয় সরকার লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে (PM Modi)।
এই সংকটের সুযোগ নিয়ে যাঁরা গ্যাসের কালোবাজারি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কেউ যদি অসাধু ব্যবসা করার চেষ্টা করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারগুলিকেও বিষয়টি নিয়ে কঠোর নজরদারি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি (PM Modi)।
গত প্রায় তেরো দিনেরও বেশি সময় ধরে ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধের প্রভাব গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে পড়েছে। সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। রাশিয়া ও চিন ছাড়া অন্য দেশগুলির জাহাজ চলাচলে সেখানে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে ভারতের দিকে তেল ও গ্যাস আসার পথেও বড় সমস্যা তৈরি হয় (PM Modi)।
এর পর থেকেই ধীরে ধীরে দেশে গ্যাসের সংকট দেখা দিতে শুরু করে। গৃহস্থের রান্নার গ্যাস এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ানো হয়। যদিও পরে জানা যায়, ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলির জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে দাম বাড়লেও বহু জায়গায় বাণিজ্যিক গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে হোটেল ও রেস্তরাঁ ব্যবসায়। দেশের বিভিন্ন শহরে অনেক হোটেল ও রেস্তরাঁ সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে বলে খবর।
সাধারণ মানুষ গ্যাস বেশি করে মজুত না করেন, সেই কারণেও কিছু নিয়ম বদলানো হয়েছে। আগে গ্যাস বুকিংয়ের মধ্যে একুশ দিনের ব্যবধান ছিল। এখন সেই সময় বাড়িয়ে পঁচিশ দিন করা হয়েছে। অনেক মানুষ গ্যাসের খরচ কমাতে বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্র ব্যবহার শুরু করেছেন। বাজারে ইনডাকশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্রের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বলে সূত্রের খবর। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এই কমিটির সদস্য।












