নেদারল্যান্ডস (Netharlands)সফরে গিয়ে একদিকে যেমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তেমনই অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উঠল বড় প্রশ্ন। এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন। তবে সেই মন্তব্যের কড়া জবাবও দিয়েছে ভারত।
নরেন্দ্র মোদির সফরের আগেই ডাচ (Netharlands) প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন জানিয়েছিলেন, ভারতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সরকার উদ্বিগ্ন। এই বিষয়ে ভারতকে একাধিকবার সতর্কও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর সাংবাদিক বৈঠকে এক ডাচ (Netharlands) সাংবাদিক ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বিশেষ সচিব সিবি জর্জকে প্রশ্ন করেন, ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই কি প্রধানমন্ত্রী মোদি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেননি?
এই প্রশ্নের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন সিবি জর্জ। তিনি বলেন, এই ধরনের প্রশ্ন আসলে জ্ঞানের অভাব থেকেই করা হয়। ভারতের সভ্যতা হাজার হাজার বছর ধরে বৈচিত্র্যের মধ্যেই টিকে রয়েছে। তিনি বলেন, বহু শতাব্দী ধরে ভারতে যিহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছেন। স্বাধীনতার সময় দেশে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা ছিল ১১ শতাংশ, যা বর্তমানে প্রায় ২০ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সিবি জর্জ আরও বলেন, ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় সমাজ পৃথিবীর খুব কম দেশেই দেখা যায়। তিনি ডাচ সাংবাদিককে ভারত সম্পর্কে আরও পড়াশোনা করার পরামর্শ দেন।
এই বিতর্কের মাঝেও নেদারল্যান্ডস (Netharlands) সফরকে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ভারত সরকার। সফরে দুই দেশের মধ্যে মোট ১৭টি চুক্তি সই হয়েছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়াও বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের শেষে নেদারল্যান্ডস সরকার ভারতের হাতে চোল যুগের এক হাজার বছরের পুরনো ২৪টি তাম্রলিপিও তুলে দিয়েছে।











