পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহের মধ্যেই ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর এল (Middle East Crisis)। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে দুই ভারতীয় জাহাজকে ছাড় দিয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কথাবার্তার পরই এই অনুমতি মিলেছে বলে জানা যাচ্ছে (Middle East Crisis)।
সূত্রের খবর, ভারতের দুই তেলবাহী জাহাজ পুষ্পক এবং পরিমলকে ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালী পারাপারের জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছে তেহরান। এই দুই জাহাজ এখন নির্বিঘ্নে ওই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করছে বলেই খবর (Middle East Crisis)।
উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। শুধুমাত্র রাশিয়া এবং চিনের জাহাজকে এতদিন ছাড় দেওয়া হয়েছিল। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং তেলের বাজারেও চাপ বাড়ছে (Middle East Crisis)।
ভারত সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘদিন চললে তেলের সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণের পথ। এটি বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব ভারতের উপরও পড়তে পারে (Middle East Crisis)।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সেই বৈঠকের পরই পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসে বলে সূত্রের দাবি। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করলে ইরান তাদের নিরাপত্তা দেবে এবং কোনও ধরনের হামলা করা হবে না।
তবে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ইউরোপ, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ইরান এ কথাও জানিয়েছে, ওই দেশগুলি থেকে তেল নেওয়া হলে ভারতের জাহাজের উপর নজরদারি বাড়ানো হতে পারে।
এই ঘটনাকে অনেকেই ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন। কূটনীতি বিশেষজ্ঞ শুভাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ভারত সব সময় আলোচনার পথেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে চেয়েছে। ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েল— সকলকেই একই বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
তাঁর মতে, ইরানও বুঝেছে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক স্তরে ভারতের এই উদ্যোগ সফল হয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল পরিস্থিতিতেও কূটনৈতিকভাবে কীভাবে এগোতে হয়, তা ভারত ভালোভাবেই জানে।













