পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল পদ থেকে সি ভি আনন্দ বোস ইস্তফা দেওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে (Mamata Banerjee)। ঠিক কী কারণে তিনি পদ ছাড়লেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। খুব শীঘ্রই রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল শপথ নেবেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে (Mamata Banerjee)।
এই আবহেই ধরনা মঞ্চ থেকে বড় প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সন্ধ্যায় ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা কর্মসূচির মঞ্চ থেকে তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বক্তব্যের জবাব দেন। সেই সময়ই তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলায় কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার কোনও পরিকল্পনা চলছে (Mamata Banerjee)।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হঠাৎ রাজ্যপাল বদল হয়ে গেল। এর পিছনে কোনও পরিকল্পনা বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাজ করছে কি না সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তিকে তামিলনাড়ুতে নানা বিতর্কের মধ্যে দেখা গিয়েছিল, তাকেই আবার বাংলার রাজ্যপাল করা হচ্ছে।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়, তাহলে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। বরং তিনি কিছুটা বিশ্রাম পাবেন। তারপর আবার আন্দোলনে নামবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজভবন থেকে কি তখন টাকা বিলি হবে, না কি সেটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে পরিণত হবে (Mamata Banerjee)।
রাজ্যপালের ইস্তফার পর থেকেই বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এসআইআর সংক্রান্ত কাজ শেষ না হলে রাজ্যে নির্বাচন করা সম্ভব হবে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে কি না তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এছাড়াও নতুন রাজ্যপাল হিসেবে আর এন রবিকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তিনি দীর্ঘদিন প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে বাংলায় আনার পিছনে বিশেষ কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।
এরই মধ্যে শনিবার রাজ্যে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্য সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে জানা যায়। তার জবাব দিতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন এবং রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই বিষয়টি বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।













