রাজ্যে এসে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রতি অসন্তোষের ইঙ্গিতও ছিল। সেই মন্তব্যেরই জবাব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সন্ধ্যায় মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে তিনি জানান, কেন রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে যেতে পারেননি (Mamata Banerjee)।
শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি যখন কোনও রাজ্যে সফরে যান, তখন তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ। এটাই নিয়ম এবং প্রোটোকল।
এই মন্তব্যের জবাবেই সন্ধ্যায় ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, প্রতিদিন যদি কেউ না কেউ রাজ্যে আসেন, তাহলে তাঁর পক্ষে সব জায়গায় গিয়ে উপস্থিত থাকা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সারাদিন যদি বিভিন্ন জায়গা থেকে অতিথিরা আসেন, তাহলে কি সারাক্ষণ তাঁদের পিছনে ঘুরে বেড়াতে হবে? বছরে একবার এলে তিনি অবশ্যই স্বাগত জানাবেন। কিন্তু বারবার এলে তাঁর পক্ষে সময় বের করা সম্ভব নয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কথায়, তিনি বর্তমানে মানুষের স্বার্থে ধরনায় বসেছেন। সেই কারণে তাঁর পক্ষে অন্য অনুষ্ঠানে যাওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, তাঁর কাছে মানুষের কাজই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে প্রথমে অন্য জায়গায় অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়নি। পরে নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান করতে হয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, কেন রাজ্য সরকার তাঁকে অন্য জায়গায় সভা করতে দিল না। মুখ্যমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ছোট বোনের মতো, তবে হয়তো কোনও কারণে তিনি তাঁর উপর রুষ্ট হয়েছেন।
এই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাষ্ট্রপতিকে তিনি অত্যন্ত সম্মান করেন। কিন্তু তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, তাঁকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে।
মমতা আরও বলেন, যে অনুষ্ঠান নিয়ে এত বিতর্ক, সেটি রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠান ছিল না। সেই কারণে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য রাজ্য সরকারের কাছে ছিল না। কবে অনুষ্ঠান হবে এবং কখন রাষ্ট্রপতি আসবেন, সেই সীমিত তথ্যই রাজ্যের কাছে ছিল বলে তিনি জানান।
এদিন আদিবাসীদের অনুষ্ঠান নিয়ে রাষ্ট্রপতির অভিযোগেরও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আদিবাসী সমাজের উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার বহু কাজ করেছে। অলচিকি ভাষায় পড়াশোনার সুযোগ থেকে শুরু করে তফসিলি জনজাতির ছাত্রছাত্রীদের জন্য নানা প্রকল্প চালু করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় যখন আদিবাসীদের উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটে, তখন সে বিষয়ে কেন কথা বলা হয় না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মণিপুরের ঘটনাগুলির সময় কেন নীরবতা দেখা গিয়েছিল।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি রাষ্ট্রপতিকে সম্মান করেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তিকে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কথা বলা উচিত নয়। সমালোচনা করতে পারেন, কিন্তু নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নির্দেশে মন্তব্য করা ঠিক নয় বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়াও আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও ব্রায়েনকে।













