ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গে এবার রাষ্ট্রপতির (Draupadi Murmu) অনুষ্ঠান ঘিরেই শুরু হল তীব্র বিতর্ক। বাংলায় এসে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Draupadi Murmu)। তাঁর অভিযোগ, অনুষ্ঠানের জন্য রাজ্যের তরফে অনুমতি দেওয়া হয়নি। সেই কারণে বারবার সভাস্থল বদল করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান করতে হয়েছে বলেও তিনি জানান।
শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে আসেন রাষ্ট্রপতি (Draupadi Murmu)। মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখতে গিয়েই তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন দর্শকাসনের বহু চেয়ার ফাঁকা দেখে। রাষ্ট্রপতি প্রশ্ন তোলেন, এত চেয়ার ফাঁকা কেন? তিনি বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে কেউ বাধা দিচ্ছে।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা প্রথমে জানিয়েছিলেন, শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরে এই সম্মেলন হবে। কিন্তু পরে চারবার সভাস্থল বদল করতে হয়। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছে গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেয় প্রশাসন (Draupadi Murmu)।
তবে আয়োজকদের অভিযোগ, বহু আমন্ত্রিত অতিথি এই অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি। কারণ তাঁদের অনেকেই নিরাপত্তা পাস পাননি। পুলিশ তাঁদের আটকে দেয় বলেও অভিযোগ ওঠে (Draupadi Murmu)।
মঞ্চে বক্তব্য রাখার পর রাষ্ট্রপতি সেখানেই থেমে থাকেননি। অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি চলে যান শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগরে, যেখানে প্রথমে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে গিয়ে তিনি পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন (Draupadi Murmu)।
সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি এই জায়গাতেই অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলেন এবং সেখানে পর্যাপ্ত জায়গাও ছিল। কিন্তু কেন রাজ্য সরকার অনুমতি দেয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ছোট বোনের মতো। তবে হয়তো কোনও কারণে তিনি তাঁর উপর রুষ্ট হয়েছেন। সেই কারণেই হয়তো অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাজ্যের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন না। রাষ্ট্রপতি বলেন, সাধারণত কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি গেলে তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার কেউ থাকেন। এটাই প্রচলিত নিয়ম এবং প্রোটোকল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শেষে বিধাননগরে পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় একটি শালগাছ রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। তারপর সেখান থেকে বাগডোগরা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন।
এই বিষয়ে শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, রাজ্যের পক্ষ থেকে তিনিই রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সেই সময় জেলা শাসক এবং পুলিশ কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, এর আগেও প্রণব মুখোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনিই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
সভাস্থল বদলের প্রসঙ্গে গৌতম দেব বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণেই অনুষ্ঠানস্থল নিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল।













