মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার জেরে টানা কয়েক দিন বিমান চলাচল কার্যত বিপর্যস্ত ছিল। তার মধ্যেই সোমবার আবুধাবি থেকে একটি বিমান দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেছে (Middle East Crisis)। ধীরে ধীরে উড়ান পরিষেবা পুনরায় শুরু হলেও পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত।
ফিরে আসা এক যাত্রী জানান, উপসাগরের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য চোখে পড়েছে (Middle East Crisis)। আকাশপথ অত্যন্ত ব্যস্ত ছিল বলেও তিনি বলেন। তবে আবুধাবিতে তেমন দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়নি। আবুধাবি থেকে আর একটি উড়ান মুম্বইয়েও পৌঁছেছে।
এতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের সব নিয়মিত যাত্রীবাহী উড়ান স্থগিত থাকবে (Middle East Crisis)। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে ধাপে ধাপে পরিষেবা চালু করা হবে। সংস্থা যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যতক্ষণ না সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস ঘোষণা করেছে, মাসকাটের সঙ্গে দিল্লি, কোচি, কোঝিকোড়, মাঙ্গালুরু, মুম্বই ও তিরুচিরাপল্লির সংযোগ ৩ মার্চ থেকে পুনরায় শুরু হবে (Middle East Crisis)। অন্য দিকে একটি ভ্রমণ সংস্থা জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজাইরাহ থেকে দিল্লি ও মুম্বইয়ের উদ্দেশে বিশেষ চার্টার উড়ান চালানো হবে। আসন সীমিত থাকায় আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে টিকিট দেওয়া হবে।
এমিরেটস সীমিত সংখ্যক উড়ান চালুর কথা জানিয়েছে (Middle East Crisis)। তারা জানিয়েছে, আগের বুকিং থাকা যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অধিকাংশ উড়ান এখনও স্থগিত রয়েছে বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফ্লাইদুবাইও অল্প কয়েকটি উড়ান চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং যাত্রীদের যাত্রার আগে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করতে বলেছে।
এয়ার ইন্ডিয়া মধ্যপ্রাচ্যের উড়ান স্থগিত রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে। তবে উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের পরিষেবা চালু রয়েছে। ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক জানিয়েছে, বিকল্প রুট ব্যবহার করে দীর্ঘ দূরত্বের উড়ান ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করা হচ্ছে। বিমান ও ক্রু পুনর্বিন্যাসের কাজও চলছে।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, জেদ্দা থেকে ৩ মার্চ বিশেষ দশটি ত্রাণ উড়ান চালানো হবে, যাতে আটকে পড়া যাত্রীরা দেশে ফিরতে পারেন। সরকারি অনুমতি ও আকাশপথের পরিস্থিতির উপর তা নির্ভর করবে।
মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক সংকটের জেরে সোমবার ৩৫৭টি উড়ান বাতিল হয়েছে। তবে সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে শতাধিক অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বাড়তেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক দেশে। তার জেরে বহু দেশ আকাশপথ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এখনও ঝুঁকির মুখে। পরিস্থিতি কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি।












