মুম্বইয়ে একই পরিবারের চারজনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, তরমুজ খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই এই মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন তদন্তকারীরা সেই ধারণা থেকে সরে গিয়ে অন্য একটি সম্ভাবনার দিকে নজর দিচ্ছেন—কোনও বিষাক্ত পদার্থের প্রভাব (Mumbai)।
শুরুতে শহরের কিছু অংশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তরমুজ বিক্রিও কমে যায় (Mumbai)। কিন্তু খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, ওই তরমুজে কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক বা ভেজাল মেশানো ছিল না। ফলে ফলটিকে সরাসরি মৃত্যুর কারণ হিসেবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা রিপোর্টে জানানো হয়েছে, তরমুজে কোনও কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে ২৭ এপ্রিল। ওই দিন আবদুল্লাহ ডোকাডিয়া, তাঁর স্ত্রী এবং দুই কন্যা একটি পারিবারিক জমায়েতের পর খাবার খান, যেখানে ছিল বিরিয়ানি এবং পরে তরমুজ। কিছুক্ষণের মধ্যেই চারজনের বমি শুরু হয় এবং তারা অচেতন হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাদের বাঁচানো যায়নি (Mumbai)।
তদন্তে এখন নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় মৃতদের শরীরে মরফিন নামক শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্যের পর বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, মৃতদের দেহে মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড এবং অন্ত্রের রং পরিবর্তন হয়ে সবুজাভ হয়ে গিয়েছিল, যা স্বাভাবিক নয় এবং বিষ বা রাসায়নিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিতে পারে।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, কীভাবে মরফিন তাদের শরীরে পৌঁছল। এটি দুর্ঘটনাবশত নাকি পরিকল্পিতভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পূর্ণ সত্য জানতে আরও ফরেনসিক ও টক্সিকোলজি রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, তরমুজ ঘিরে শুরু হওয়া সাধারণ খাদ্য বিষক্রিয়ার ধারণা এখন এক রহস্যময় বিষক্রিয়া বা বিষ প্রয়োগের তদন্তে রূপ নিয়েছে।













