Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • বিদেশ
  • মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনেই নিহত! ইরানে ক্ষমতার সিংহাসনে কে বসবেন, শুরু তীব্র জল্পনা
বিদেশ

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনেই নিহত! ইরানে ক্ষমতার সিংহাসনে কে বসবেন, শুরু তীব্র জল্পনা

khamenei a
Email :7

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে রবিবার (Khamenei Death) নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump নিজের সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেন, এই হামলায় খামেনেই নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, খামেনেইর মৃত্যু ইরানের মানুষের জন্য নিজেদের দেশ ফেরত পাওয়ার সবচেয়ে বড় সুযোগ। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের (Khamenei Death) এই নেতা ইতিহাসের অন্যতম খারাপ ব্যক্তি ছিলেন এবং উন্নত গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে পারেননি।

৮৬ বছর বয়সি খামেনেই ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের শাসনভার সামলাচ্ছিলেন (Khamenei Death)। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন ছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে এই নিয়ে মাত্র দ্বিতীয়বার বড় রাজনৈতিক পালাবদলের পরিস্থিতি তৈরি হল। ১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা Ruhollah Khomeini-র মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে উঠে এসে সর্বোচ্চ নেতা হয়েছিলেন খামেনেই।

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী ৮৮ সদস্যের বিশেষ পরিষদ সর্বোচ্চ নেতাকে নির্বাচন করে (Khamenei Death) এবং তাঁর উপর নজরদারি চালায়। তবে প্রার্থীদের বাছাই করে গার্ডিয়ান কাউন্সিল, যার সদস্যদের নির্বাচনেও সর্বোচ্চ নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব থাকে। ফলে উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই শাসক গোষ্ঠীর অন্দরেই সীমাবদ্ধ ছিল।

খামেনেইর (Khamenei Death) সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই। ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা শাসনব্যবস্থার ভিতরে যথেষ্ট প্রভাবশালী বলে মনে করা হয়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও তাদের স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা তাঁকে বাড়তি শক্তি দেয়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম আলি লারিজানি (Khamenei Death)। তিনি প্রবীণ রাজনীতিক এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রাক্তন কমান্ডার। দীর্ঘদিন খামেনেইর বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত লারিজানি বর্তমানে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব। সাম্প্রতিক অস্থিরতার সময় দেশকে সংকট থেকে বের করতে খামেনেই তাঁর সাহায্য চেয়েছিলেন বলেও জানা যায়।

এ ছাড়াও একাধিক ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে। আলিরেজা আরাফি ইরানের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিল ও বিশেষ পরিষদের সদস্য। মোহসেন কোমি খামেনেইর দফতরের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মোহসেন আরাকি বহুদিন ধরে বিশেষ পরিষদের সদস্য এবং তাঁর ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেইও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন, কারণ তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে এমন কোনও ব্যক্তি নেই যিনি খামেনেইর মতো একইসঙ্গে ধর্মীয় মর্যাদা ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ধরে রাখতে পারবেন। বহু বছর ধরে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের মাধ্যমে শাসন চালালেও এখন সেই শক্ত কাঠামো কতটা অটুট আছে, তা স্পষ্ট নয়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মতো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের উপর নতুন নেতার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরান এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ক্ষমতার পালাবদল কীভাবে হবে এবং নতুন নেতা কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবেন, তা নিয়েই এখন তেহরান থেকে বিশ্বরাজনীতি—সবখানেই তীব্র জল্পনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts