মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বড় আকারের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে রবিবার নিশ্চিত করেছে ইরান (Iran)। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে চল্লিশ দিনের জাতীয় শোক পালন করা হবে। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শনিবার গভীর রাতে একযোগে হামলায় শীর্ষ নেতৃত্ব ও একাধিক সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করা হয়। সেই হামলাতেই খামেনেই নিহত হন (Iran)।
একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি আধিকারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলার পর খামেনেইর (Iran) বাসভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই অভিযানে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে এবং খামেনেইকে (Iran) লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন খামেনেই। দেশের সামরিক ও কৌশলগত সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ক্ষমতা ছিল তাঁর হাতেই।
খামেনেইর মৃত্যুর খবরে ইরানের (Iran) বিভিন্ন শহরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তেহরান, কারাজ ও ইসফাহানের কিছু এলাকায় মানুষকে রাস্তায় নেমে উল্লাস করতে দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতেও একই ছবি দেখা গিয়েছে, যদিও সেগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। অন্যদিকে রাতভর বোমাবর্ষণের পর বহু জায়গায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাবরিজের এক বাসিন্দা রয়টার্সকে ফোনে জানান, তাঁদের পরিবার ভয়ে কাঁপছে, শিশুদের নিয়ে কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না।
খামেনেইর মৃত্যু ইরানের শাসনব্যবস্থার সামনে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম সরাসরি সামরিক হামলার মধ্যে সর্বোচ্চ নেতার আকস্মিক মৃত্যু ঘটল। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেই প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ইরানের সংবিধান অনুসারে সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে শিয়া ধর্মগুরু হতে হয় এবং ‘বিলায়াত-এ-ফকিহ’ নীতিতে বিশ্বাসী হতে হয়। এই নীতি অনুযায়ী দ্বাদশ ইমামের প্রত্যাবর্তন না হওয়া পর্যন্ত একজন ইসলামি ধর্মগুরুর হাতেই রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকবে। খামেনেইর আগে রুহোল্লাহ খামেনই একইভাবে দেশের সর্বময় ক্ষমতা ভোগ করতেন। কিন্তু সক্রিয় সংঘাতের সময় এভাবে ক্ষমতার শূন্যতা আগে কখনও তৈরি হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খামেনেই ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের একটি ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন। শনিবারের হামলায় সেই ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিও নিহত হয়েছেন বলে খবর। ফলে প্রশাসনের ভিত কতটা অটুট আছে, তা স্পষ্ট নয়।
সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে খামেনেইর ছেলে মোজতবা খামেনেই এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতার নাতি হাসান খোমেনির নাম আলোচনায় এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে এমন কেউ নেই যিনি খামেনেইর মতো ধর্মীয় মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ একসঙ্গে ধরে রাখতে পারবেন। ফলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এবং প্রভাবশালী ধর্মীয় নেটওয়ার্কের উপর নতুন নেতার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ইরানের ইতিহাসের এই বিস্ফোরক মুহূর্তে সারা বিশ্বের নজর এখন তেহরানের দিকে। যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই নেতৃত্বের পালাবদল কীভাবে সামাল দেয় ইসলামি প্রজাতন্ত্র, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।













