শুক্রবার মধ্যরাতে একুশের প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন শহিদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন (Bangladesh)। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
গত দেড় বছরে জামাতের ষড়যন্ত্রের কারণে বাংলাদেশের বাঙালি অস্মিতা বারবার আঘাত পেয়েছে (Bangladesh)। নতুন শপথ গ্রহণের পর প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি তারেক যেন বোঝালেন যে, একাত্তরের স্মৃতি এখনও জীবিত। তিনি পুনরায় মনে করালেন, কীভাবে বাংলা ভাষার প্রতি তীব্র প্রেমই পূর্ব পাকিস্তান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিল (Bangladesh)।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভাষা শহিদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া করেন তারেক রহমান (Bangladesh)। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও তার নেতৃত্বে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আজ শনিবার সারা দিন শহিদ মিনারে বিভিন্ন পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানাবেন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান জামাতে ইসলামের নেতা-কর্মীরাও।
ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে তৎকালীন ঢাকায়। ১৯৪৮ সালের মার্চে আন্দোলন সীমিত আকারে বিস্তার লাভ করে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়, ফলে অনেক ছাত্র শহিদ হন। পরদিন সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানায়।
ভাষা শহিদদের স্মৃতিকে অমর করতে ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও পাকিস্তান সরকার তা ২৬ ফেব্রুয়ারি ধ্বংস করে। এরপর ভাষা আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের পর ৭ মে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে সংশোধন আনা হয় এবং বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করা হয়। ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয় এবং ৮ মার্চ থেকে কার্যকর করা হয়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ২০১০ সালে।











